ফ্রাইডে কালচার

ফ্রাইডে হল আমেরিকার সাপ্তাহিক উইকএন্ড। সপ্তাহ শেষে ঠিক দুদিন ছুটির আগের সময়টা। এদিন দুপুর তিনটার মধ্যে মোটামুটি অফিস আদালত ফাঁকা হয়ে যায়। সন্ধ্যা থেকে বেড়ে যায় রাস্তায় গাড়ির পরিমান, গাড়ির স্পিডিং এর দাপট, হঠাৎ চেপে ধরা ব্রেকের স্ক্র্যাচিং এর শব্দ। সেইসাথে বেড়ে যায় পুলিশের গাড়ি, এম্বুলেনস, ড্রাইভিং আন্ডার ইনফ্লুয়েনস (মদ খেয়ে গাড়ি চালানো) এনফোরসমেন্ট এর ভ্যান আর একসিডেন্ট। রাত তিনটা চারটা পর্যন্ত বার এ চলে হই চই, রাস্তায় চেঁচামেচি, উচ্চস্বরে গান বাজনা ইত্যাদি। ঘুমোনোই দায় হয়ে যায়।

প্রথম যখন আসলাম, জাস্ট অফ দা বোট (গেরাম থেকে সদ্য আসা আবুল (হাসি) ) তখন তো এইসব দেখে ভয়ই লাগত। পার্কিং স্ট্রাকচার গুলো ভেতর দেখতাম মাতাল মেয়েগুলো চেঁচামেচি করছে, বমি করছে, ভয়ই পেয়ে যেতাম। সাদা মেয়েগুলো যেন ছেলেগুলোর চেয়ে বেশী ড্রিঙ্কস করে। এখন এদের দেখে করুনা হয়। কোন নরকেই না পৌছেছে বেজন্মাগুলো। হাসি পায় যখন টেলিভিশনে নানাভাবে মদ খাওয়া থেকে বিরত করতে চেয়ে বিজ্ঞাপন দেয়।

একজন ইন্ডিয়ান বন্ধু তার রুমমেটের কাছ থেকে শোনা অভিজ্ঞতার কথা জানায়। সেই লোক ট্যাকো বেল (একটি মেক্সিকান ফাস্ট ফুডের দোকান) এ ম্যানেজার। প্রায় ফ্রাইডে নাইটে নাকি সাদা মেয়ে গুলো দোকানে আসে, এসে জানতে চায় would you give me a burrito if I show my boobs?, বুক দেখালে খাবার দেবে? বুরিতো হচ্ছে একটি মেক্সিকান খাবার। অনেকে রাজি হয়, অনেকে হয়না। তো এই ইন্ডিয়ান লোকটি একবার এরকম পরিস্থিতে বলল, ভেবে দেখতে পারি, যদি তোমার বুক সুন্দর হয়। তখন মেয়েটির বুক দেখে লোকটি জানায়, নাহ পছন্দ হয়নি আমার, খাবার মিলবে না।

আমার ল্যাবের মেক্সিকান ছেলেটা শেষ পর্যন্ত বাড়ি ছাড়ছে বাধ্য হয়ে, তার পাশের ফ্ল্যাটের মেয়েটার ফ্রাইডে পাটির্র অত্যাচারে।

তবে বিষয়টা সম্পূর্ণ এজ গ্রুপের ওপর ডিপেন্ড করে। আমি ইউনিভাসির্টির খুব কাছে থাকি, উপরন্তু ডাউনটাউনে থাকি। সুতরাং এখানটায় ব্যাপারটা খুব প্রকট। আর প্রচুর আমেরিকান কিন্তু বেশ ভাল এবং এরকম যা ইচ্ছা তাই করে না। তবে বেশ বড় অংশ এরকমটা করে থাকে বলে এটা এখন আমেরিকানদের একটা বড় মাথা ব্যাথার বিষয়।

(প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যার ইন ব্লগ ২০০৬-০৪-০৯)

টি মন্তব্য:

<< নীড়পাতা