বিয়ের জন্য মেয়ে দেখা



এশিয়ার দেশগুলোতে সেটল ম্যারেজের ক্ষেত্রে মেয়ে দেখা নামক এই বিদঘুটে প্রথাটা চালু আছে। পুরো প্রসেসটি বেশ জটিল এবং অর্থ ও সময় দুটোরই অপচয় ঘটায়। প্রথমে মেয়ের বা ছেলের খোঁজ লাগাও - সম্ভবত কোন মধ্যবতীর্ লোকের মাধ্যম - সে হতে পারে বিনামূল্যে সাহায্যকারী কোন আত্মীয় বা অথের্র বিনিময়ে সাহায্যকারী ঘটক ব্যাক্তি বা সংস্থা।

এই মেয়ে দেখা পদ্ধতির জন্ম অনেক বছর আগে যখন মেয়ে ছেলেরা কাছাকাছি হবার সুযোগ পেত কম, বিয়ের আগের সর্ম্পকটাকে ভীষন খারাপ হিসেবে ধরা হত। এ যুগেও দেখা যায় বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রথাটার দরকার আছে। যেমন ধরুন ছেলে বা মেয়ে দেশের বাইরে থাকে, সেক্ষেত্রে তাদের গন্ডি সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। তাই দরকার হয় ম্যাচমেকিং। কিংবা ছেলে বা মেয়ে এতটাই অর্ন্তমূখী যে বিপরীত লিঙ্গের সাথে তাদের মেলামেশা সীমিত - সেক্ষেত্রেও এটার প্রয়োজন। কিন্তু আমার আপত্তি পরিবারের সবাই দলবেঁধে যাওয়াটাতে।

শুধুমাত্র এই ব্যাপারটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ম্যাচমেকার সংস্থা এবং ওয়েবসাইট। বিশেষ করে ইন্ডিয়ার শাদী ডট কম, বা রেডিফ ডট কমের মত ওয়েবসাইট গুলো এক্ষেত্রে গুরুত¡পূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। বাংলাদেশেও এই ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ফলে অনেকে এদের কাছে ধর্ণা দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে চান বিয়ের এই phase টিতে।

একটা ভাল সম্বন্ধ খুঁজে পাওয়া গেলে শুরু হয় মেয়ে দেখা। মূল কনসেপ্ট হচ্ছে মেয়ের বাড়িতে গিয়ে ছেলের বাসার সবাই চেখে দেখবেন সবকিছু ঠিক আছে কিনা - মেয়ের বাড়ির রান্না থেকে শুরু করে, মেয়ের চেহারা ছবি, পরিবারের অন্যান্যদের অবস্থা ইত্যাদি।

এই ব্যাপারটা যে কি ভয়ঙ্কর তা সে মেয়ে মাত্রই জানে। সেজেগুঁজে বসে থাকো, হেঁটে দেখাও, গান শুনাও, ধাঁধার উত্তর দাও, হাসি মশকরা সহ্য কর - এরকম বিভিন্ন বিচিত্র ব্যাপারের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় মেয়েটিকে। অনেকে নামাজের মাশলা-মাসায়েল জিজ্ঞেস করে মেয়েকে। অনেকে আবার ভেজা পায়ে হেঁটে যেতে বলে পায়ের নিচের ফঁাকা জায়গাটা ঠিক আছে কিনা দেখার জন্য - যেন ওটা ঠিক না থাকলে কেয়ামত হয়ে যাবে। মুরুব্বীরা মেয়েটার শরীরের বিশেষ জায়গায় তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে - 'আমাগো পোলাডা মজা পাইবো কিনা সেইটা নিশ্চিত করতে হইবো না?' যেন কোরবানীর গরুর হাট। অথচ ছেলেটাকে এসবের কিছুই করতে হয়না। বসে বসে সে খালি মজা দেখে। এদিকে মেয়েটার পরিবারকে ৮/১০ জন লোক খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে করতে কালঘাম ছুটে যায়।

ইদানিং আবার এর ধরন বদলেছে। কোন দোকানে ছেলের পরিবারের একজন দুজন যায়, আর মেয়েটাও কাউকে নিয়ে যায়। দেখা সাক্ষাত হয় কথা বার্তা হয় - যেন সাজানো নাটক। শরীর বিশ্লেষন চলতে থাকে এরই ফাঁকে। আধুনিক নাগরিক জীবনের শর্টকাট মেয়ে দেখা।

আরেকটা ফর্ম আছে যেখানে মেয়ে ছেলে ফোনে কিছুদিন কথা বলে নিজেদের জেনে নেয়। তারপর নিজেরা কোথাও ডেটিংএ গিয়ে আরেকটু একান্ত হয় দুজনার। এই পদ্ধতিটাকে অবশ্য আমার ভালই মনে হয়েছে।

এখন যদি আপনার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ঘটে তাহলে কিভাবে দেখবেন? আপনি কি পুরোনো পদ্ধতিতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে মেয়ে দেখতে চাইবেন? নাকি নিজের মতে করে মেয়েটার সাথে কথা বলে বুঝে শুনে নিবেন?


(লেখাটির কনসেপ্টটার জন্য ধন্যবাদ ইফতেকার ভুঁইয়াকে)

মন্তব্যসমূহ
  • সামিউল বলেছেন:
    ২০০৬-০৬-৩০ ০২:০৬:২৮
    এখনকার দিনে সেটল ম্যারিজটা কিছু চাহিদা মেটানোর সামাজিক চুক্তি ছাড়া আর কিছুই না বলে মনে হয়।বিয়ে করার ক্ষেত্রে ছেলে মেয়ে দুইজনের অন্তত: নিজেদের মধ্যে ভাব-ভালোবাসা থাকা দরকার এবং একসাথে বাকী জীবন কাটানোর আগ্রহ থাকা দরকার বলে মনে করি।
  • হযবরল বলেছেন:
    ২০০৬-০৬-৩০ ০২:০৬:৩৯
    ছবিগুলি তুমি কই পাও।এই ছবি দেখে আমি মুগ্ধ। এই লেখায় কি ছু মসলা দিই।

    আগে গ্রামে মেয়ে দেখার সময় পাত্র পক্ষ আনারস নিয়ে যেত। ছিলার সময় আনারসের চোখ ফেলতে গিয়ে যদি আনারস শেষ হয়ে যায় তবে অপচয়ী মেয়ে। যদি কম ছিলে এবং সবজে রংটা থেকে যায় তবে কিপটুশ মেয়ে।

    মেয়ে দেখানোর জন্য সবচেয়ে ভাল হচ্ছে শীতের বিকাল বেলা সময়টা। এই সময় যে রোদ থাকে সেটাকে বলে গৌরর্বণ রোদ। এই আলোয় যা দেখবেন তাই ভালো লাগবে (এমনকি নেড়ি কুকুর দেখলেও )। শীতকালে বিয়ের প্রার্দু ভাবের এটা একটা সাইড কারণ।

    সাধু সাবধান গোধূলির আলোয় দেখবেন না , আর আম-কাঁঠালে ভুলবেন না।
  • এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
    ২০০৬-০৬-৩০ ০২:০৬:৩৪
    হযবরল মসলা গুলোর জন্য ধন্যবাদ। আমার ব্যাপারগুলো জানা ছিল না। আর ছবির জন্য ইন্টারনেট। একবার বেশ কিছু ছবি ডাউনলোড করে রেখেছিলাম একটা ত্রিডি ছবির গ্যালারী থেকে। সুযোগ বুঝে মেরে দেই।
  • আড্ডাবাজ বলেছেন:
    ২০০৬-০৬-৩০ ০২:০৬:০৭
    ভাইরে, এখন মিয়া বিবি রাজী থাকলেই গার্জিয়ানরা হাফ ছেড়ে বাচেন। ঝামেলা যতো কম ততো ভাল। ঘটা করে দেখার প্র্যাকটিস নির্ভর করে পারিবারিক পটভূমির উপর। তবে সাধারণত পছন্দ না হলে কেউ ফর্মালি দেখতে চায় না। ধন্যবাদ।
  • চোর বলেছেন:
    ২০০৬-০৬-৩০ ০৪:০৬:১২
    ব্যাপারটা কে কিভাবে দেখে তার ওপর নির্ভরশীল।প্রথমত, ভালোবাসা থেকেই বিয়ে হতে হবে, এই আশায় থাকলে অনেক মেয়ে বা ছেলেকেই চিরকুমার/কুমারী থাকতে হবে। প্রেমের বিয়ে যে settled marriage এর চাইতে বেশি সুখের হবে, তারও কোন গ্যারান্টি নাই।
    Matchmaking জিনিসটা খারাপ না। কিন্তু আমরাই এটার অপব্যবহার করি।
    আমার প্রবাসী বন্ধুরা, যারা বুদ্ধুরাম হয়ে সারা জীবন career নিয়ে ব্যস্ত ছিলো, কোন মেয়ের সাথে ঘনিষ্ট হতে পারেনি, তাদের মেয়ে খোজার দুরবস্খা দেখে কান্না পায়। এক একবার দেশে আসে, আর যাওয়ার সময় সেই খালি হাত। পছন্দের সমস্যা ছেলে মেয়ে দুইদিক থেকেই। অনেক এলেবেলে টাইপের মেয়ের মা ও মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজী হন না।
  • আস্তমেয়ে বলেছেন:
    ২০০৬-০৬-৩০ ০৪:০৬:৫৫
    ম্যাচমেকিং পুরোটাই খারাপ না, অনেক সময় অন্য কিছু ক্যাটালিস্ট হলে ভাল হয়।
    তবে দেশের প্রত্যন্তঅঞ্চলে, এমনকি শিক্ষিত অনেকের মাঝে 'মেয়ে' দেখার নামে যা চলে... সেটা স্রেফ নারী নির্যাতন ছাড়া আর কিচ্ছু না।
  • চোর বলেছেন:
    ২০০৬-০৬-৩০ ০৪:০৬:১৩
    আস্ত, তুমি বিয়া করবা কবে? ঘটকালির দায়িত্বটা আমারে দিতে পারো। যৌতুকের লিস্টিটা ছোট কইরা দিমুনে।
  • চোর বলেছেন:
    ২০০৬-০৬-৩০ ০৫:০৬:৪৪
    আর কোনো পাত্রী থাকলেও আওয়াজ দিয়েন।
  • সাইফ ভুইয়া বলেছেন:
    ২০০৬-০৬-৩০ ০৬:০৬:৪৩
    আমার কাছে বিয়ের ভাল বয়স তো ২৫ কিন্তু অনেকেই এই বয়সটায় বিয়ে কর্মটি সারতে পারে না। পড়াশোন, প্রতিষ্টা, আর্থিক সংকটের কারনে তাদের জন্য পরিবার মেয়ে দেখার কাজটি করে। আমাদের সামাজিক পদ্ধতির কারনেই মেয়ে দেখার কাজটি করতে হয় । মেয়ে বা ছেলে দেখার ব্যাপারে কল্যানকর হবে যিনি মধ্যস্খতা করবেন তিনি যদি প্রথমেই দুজনের বায়োডাটা পরষ্পরকে দিয়ে দেন। সমস্তরকম খোজখবর গুলি নিয়ে নেয়া জরুরী। যদি সব ঠিক থাকে তাহলে ছেলে মেয়ে দুজনের মাঝে কথা বলে নেয়ার একটি সুযোগ থাকা জরুরী। আমাদের দেশে হল্লা করে পাত্রী দেখার ব্যাপারটি নারী নির্যাতনের একটি পন্থা
  • আরাফাত রহমান বলেছেন:
    ২০০৬-০৬-৩০ ০৭:০৬:০৭
    মেয়ে দেখার নামে যেমন নারী নির্যাতন কাম্য নয়, তেমনি ফোনে কথা বলে ডেটিং এ গিয়ে একান্ত হবার ব্যাপারটি সমাজ ব্যবস্খায় বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। পশ্চিমা সমাজে যে ভাবে হয়েছে।
    আমার মনে হয় মধ্য পন্থা অবলম্বন করা উচিত। মেয়ে দেখতে যাবে ছেলে নিজে। সেখানে অভিভাবকদের মেয়ে দেখার কোন প্রয়োজনই নেই। আর ছেলে যখন মেয়ে দেখতে আসবে তখন মেয়েও ফ্রি ফ্রি ছেলে দেখে রাখবে। অভিভাবকরা শুধু বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করবে। তাদের আর কাজ কী?
(প্রথম প্রকাশ সামহোয়্যার ইন ব্লগ ২০০৬-০৬-৩০)

টি মন্তব্য:

Anonymous jakir ahmed বলেছেন...

ধন্যবাদ,খুব ভালো লাগলো লেখাটা পড়ে। শিক্ষার জন্য অনেক কিছু ছিল। আমি আপনাদের সাথে ছোট একটি তথ্য ভাগ করতে চাই। আশা করি আপনাদের উপকারে আসবে তথ্যটি বড়ি ভাড়া।

 

<< নীড়পাতা