আমেরিকান মোল্লা



আমি হলফ করে বলতে পারি আপনাদের জীবনে অন্তত: একবার হলেও এরকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। রাস্তায়, ছাত্র থাকা কালীন হলের রুমে কিংবা বাড়িতে এসে এসে মোল্লাদের ধর্ম বিতরন। আখিরাতে কি হবে, আমাদের কি করা উচিৎ এইসব প্যাঁচাল।

আমেরিকাতে এসে এরকম এক মোল্লার পাল্লায় পড়েছিলাম। সেই আফ্রিকান মোটকা বেটা কোন এক বাঙালী ভাইয়ের মাধ্যমে আমাদের কাছে এসে সেই পুরান প্যাঁচাল শুরু করল। কোন রকম হুঁ হ্যাঁ করে বিদায় করেছিলাম তারে। আর এরপর এই রকম কোন ফোন এলে বা সঙ্কেত পেলে সর্তক হয়ে যাই।

তো গত সপ্তাহের আগের শুক্রবার এক বাঙালী ভাইয়ের বাসায় আড্ডা বসেছে। ধুমসে মুড়ি-আচার-চানাচুর মাখা খাওয়া হচ্ছে। এমন সময় এক বড় ভাইয়ের এক আমেরিকান বন্ধু তার আরেক বন্ধুকে নিয়ে হাজির। ধরে নেই বাঙ্গালী ভাইয়াটার বন্ধুর নাম জো, আর জো এর বন্ধুর নাম জ্যাক।

তাদের সাথে কথা হতে হতে জমে উঠল আড্ডা। একথা সেকথা থেকে প্রসঙ্গ উঠল ইন্ডিয়ানদের নিয়ে, চাইনীজদের নিয়ে। তারা অভিনয় করে দেখাল চাইনীজরা কিভাবে কথা বলে, ইন্ডিয়ানরা কিভাবে কথা বলে। দেখে তো আমরা হাসতে হাসতে গড়াগড়ি। তারা স্বীকার করল আমাদের ইংরেজী অনেক বোধগম্য।

আরো আলোচনা করল ওরা যদি আমাদের দেশে যায় তাহলে ওদের কোনটা করা উচিৎ হবে না। তখন আমরা সম্ভাব্য ব্যাপার গুলো জানালাম। ওরাও বলল ওদের কি ভাল লাগে না আমাদের ব্যাপারে। আমরা তো বেশ খুশী তাদের সাথে কথা বলে।

জো আরও জানাল যে সে বাংলাদেশের ব্যাপারে অনেক আগ্রহী। সে বাংলা শিখছে। বাংলাদেশের বড় একটা ম্যাপ কিনে ঝুলিয়ে রেখেছে তার ঘরে। আমরা কে কোন শহর থেকে এসেছি তা ঠিকঠাক বলতে পারল। কোঁতায় কোঁতায় বলল "আমি বালো বাংলা বালতে ফারি না"। ১৯৭১ যে আমরা স্বাধীন হয়েছি সেটাও দেখি জানে। আমরা সকলে তো রীতিমত মুগ্ধ আর গবির্ত হয়ে ঘরে ফিরলাম।

এরপর আস্তে আস্তে থলের বের হল। সম্ভবত জ্যাক কোন একটি ক্রিষ্টান সংগঠনের সাথে যুক্ত। তারা চায় সেই বাঙ্গালী ভাইটাকে দলে ভেড়াতে। সেই প্রক্রিয়া এখনও চলছে। এই সুত্রে তাই আমার দেশের মোল্লাদের কথা মনে পড়ে গেল।

এদের বেশ কিছু ক্রিশ্চিয়ান সংগঠন আছে। তারা বেশ ভালো ভালো কাজ করে। আর্ন্তজাতিক ছাত্ররা শুরুতে একগাদা টাকা দিয়ে পড়াশুনা শুরু করে। তাই নিতান্ত দরীদ্র অবস্থায় দিন কাটাতে হয়। এই সমস্ত ক্রিশ্চিয়ান সংগঠন তখন তাদের সাহায্য করে। আমাদের স্কুলে এরকম সংগঠন Friends of Internationals, দুটি তিনটি কাজ করে থাকে। একটি হল ফানির্চার গিভাওয়ে, আরেকটি হল আউটিং - সস্তায় কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাবে। কোন শর্ত নেই তাদের। আপনার খালি গিয়ে সুবিধাটুকু ভোগ করা আর কিছু চাইনা তাদের। কত্ত ভাল তাই না?

প্রথম যখন এলাম এখানে শুনলাম ফানির্চার গিভাওয়ের কথা। সত্য মিথ্যা জানতাম না, তাই ভাবলাম গিয়েই দেখি কি হয়। প্রথমে একটা পাকিং লটে জড় হতে বলা হয়েছিল আমাদের। সেখান থেকে এক চাচা মিয়া এসে আমাদের নিয়ে গেল এক চাচের্র গোডাউনে। লাইন করে দাঁড় করিয়ে বলল। ফানির্চার ফ্রি তবে সবার ভাগ্যে একটা বড় এবং একটা ছোট ফানির্চার জুটবে। একটা নাম লেখা কাগজ যে যেটাতে রাখবে সেটা তার। এরপর বলল আসুন আমরা গডের উদ্দেশ্যে মোনাজাত করি। ... আমেন। তো সেবার খারাপ জিনিস পাইনি। একটা প্রায় ১৫০ ডলারের বক্স স্প্রিং ম্যাট্রেস আর একটা বেড সাইড টেবিল। আবার গাড়ি করে পৌছে দিয়ে গেল। মন্ধ নয়।

শুনেছি আউটিং গুলোতে বেশ সস্তায় নিয়ে যায়। খাবার, দাবার ইত্যাদি দেয়। একটু কষ্ট করে খালি গডের জন্য দোয়া করতে হয়। আসার সময় ফ্রি বুকলেট, গডকে আরো ভাল করে জানার জন্য।

আমেরিকান মোল্লাগিরি আর কাকে বলে! একবার ও ছায়া মাড়িয়েছি, বার বার নয়।


(প্রথম প্রকাশ সামহোয়্যারইন ব্লগ ২০০৬-০৬-১৩)

টি মন্তব্য:

<< নীড়পাতা