জীবনমুখি গানের সাথে পরিচয়

ক্লাস নাইন কি টেনে পড়ি। কোন এক নাটকে শুনতে পেলাম অদ্ভুত একটা গান। কি যেন? - হ্যাঁ মনে পড়েছে "হাল ছেড়োনা"। এক গানেই কাইৎ।
তখন এক গানের দোকানে খুব যাতায়াত। গল্প-উপন্যাস ছেড়ে তখন আমার যাত্রা শুরু গান বাজনার দিকে। বাংলা ব্যান্ড, হিন্দি, পুরোনো বাংলা, ইংরেজী গান এইসব তখন গোগ্রাসে গিলছি। দোকানের ব্যাটার সাথে হেভী খাতির। গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম গানটার কথা, ব্যাটা হাতে ধরায়ে দিলো 'বসে আঁকো'।
আমার সাথে গান শোনা চর্চা করত নাঈম নামের আমার জীগরি দোস্ত। নাঈম গান শুনে বলল এইটা কি গান নাকি অন্য কিছু? আমি কিন্তু তখন পুরা দমে একসেপ্ট করে ফেলছি গান গুলোকে। প্রেমের জন্য লেখা গতানুগতিক গানকে ভেঙ্গে চুড়ে এগিয়ে আসা এই গানগুলোকে বড় ভাল লেগে গিয়েছিল।
তখন আমরা চট্টগ্রামে থাকি। একবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ফেরার পথে একদল ছেলে উঠল, ভাসির্টি পড়ুয়া। তাদের দেয়া একটা এলবাম থেকে শুনতে পেলাম নচিকেতা। গানের দোকানে গিয়ে বললাম 'চোর চোর' শুনতে চাই - পরিচয় হল নচিকেতার সাথে।
এর মাঝে কোনো এক ফাঁকে পরিচয় অঞ্জনের সাথে - 'পাড়ায় ঢুকলে ঠ্যাঁ গুঁড়া করে দেব'র মাধ্যমে।
এর পর বহুদিন, বহু বছর পেরিয়ে গেছে। পরিবর্তন হয়েছে অনেক কিছুর। সুমন চট্টোপ্যাধ্যায় হয়েছে কবির সুমন। বয়স বেড়েছে, বেড়েছে শোনার পরিধি, বদলেছে রুচি। কিন্তু এখনও সেই একইরকম টানে পুরোনো গানগুলি ...
'পুরোনো নতুন মুখ ঘরে ইমারতে
...
তোমাকে চাই, তোমাকে চাই।'
(প্রথম প্রকাশ সামহোয়্যারইন ব্লগ: ২০০৬-০৬-০৬)
টি মন্তব্য:
<< নীড়পাতা