ছেলে বনাম মেয়ে

সম্পর্ক
প্রথমেই বলে রাখা ভাল, ছেলেরা সর্ম্পককে সর্ম্পক বলে না বলে, 'এটা হচ্ছে সেই সময়টুকু যখন আমি আর বাতাসী কাজটা মোটামুটি নিয়মিত ভাবে করছিলাম।' আর সর্ম্পক যখন শেষ হয়ে যায় একটা মেয়ে তখন কাঁদতে কাঁদতে বুকটা ভাসিয়ে ফেলবে বান্ধবীদের সামনে আর একটা কবিতা লেখবে 'সব পুরুষেরা আহাম্মক' এই শিরোনাম দিয়ে। তারপর সে তার জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে।
একজন পুরুষের সর্ম্পক ভাঙ্গতে কিন্তু আরেকটু বেশী সমস্যা হয়। ছাড়াছাড়ির ছয় মাস পর, কোন এক সাপ্তাহিক ছুটির দিন রাত ৩:৩০ মিনিটে সে মেয়েটাকে ফোন করবে আর বলবে 'তুমি আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছ। আমি তোমাকে কখনই ক্ষমা করবনা। তুমি একটা আস্ত ম...ী আমি তোমাকে ঘৃনা করি। কিন্তু এও জানিয়ে রাখি যেকোন সময়েই কিন্তু আমরা আবার এক হতে পারি।' একে বলা হয়ে থাকে 'ঘৃনা করি/ভালোবাসি মাদক প্রভাবিত ফোন কল'। শতকরা ৯৯ ভাগ পুরুষ জীবনে একবার হলেও এধরনের কল করেছেন। কিছু কোর্স আছে যাতে এধরনের অবস্থা থেকে রেহাই পাবার শিক্ষা দেয়া হয়। কিন্তু বস্তুত কোর্সগুলো সাফল্যের হার খুব কম।
সেক্স
মেয়েরা সেক্সের আগে ৩০-৪০ মিনিট পূর্ব-ক্রিড়া বা ফোরপ্লে পছন্দ করে। আর ছেলেরা পছন্দ করে ৩০-৪০ সেকেন্ডের ফোরপ্লে। ছেলেরা সেক্সের পূবের্ ড্রাইভ করে ঘরে আসার সময়টুকুকে ফোরপ্লের অংশ হিসেবে গণ্য করে।
পরিপক্কতা
মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় খুব দ্রুত পরিপক্কতা লাভ করে। অধিকাংশ সপ্তদশীর্ একজন পূর্ণ বয়স্কার মত আচরন করে। যেখানে ১৭ বছরের একজন বালক কার্টুন ছবি দেখে, ছোটখাট বিষয়ে ঝগড়া ঝাটি করে কাটায়।
কমেডি
ধরুন একটা রুমে কিছু পুরুষ আর মহিলা টিভি দেখছেন আর 'ত্রি স্টুজেস' এর একটি পর্ব শুরু হল। পুরুষেরা খুব উত্তেজিত হয়ে পড়বে, জোরে জোরে হাসতে থাকবে, এমনকি কোকড়া চুলের লোকটাকে অনুসরন করে অভিনয় করার চেষ্টা করবে। মহিলারা চোখ পাকাবে, বিরক্তিতে ঘোঁত ঘোঁত করবে আর অপেক্ষা করবে কখন এটা শেষ হবে।
বাথরুম
একটা ছেলের বাথরুমে ৬ টা জিনিস থাকে - টুথব্রাশ, টুথপেস্ট, সেভিং ক্রিম, রেজর, একটা সাবানের বার, আর একটা সস্তা টাওয়েল। যেখানে একজন মহিলার বাথরুমে গড়ে ৪৩৭ টা জিনিস পাওয়া যায়, যার অধিকাংশই একজন পুরুষের পক্ষে চেনা দুরুহ হয়ে যায়।
ম্যাগাজিন
ছেলেদের ম্যাগাজিনে প্রায়ই বিবস্ত্রা নারীদের ছবি দেখা যায়। আবার মেয়েদের ম্যাগাজিনেও দেখা যায় বিবস্ত্রা নারীর ছবি। এর কারন হল, মেয়েদের শরীর হল একটা সুন্দর শিল্পকর্ম, আর ছেলেদের শরীর মাংশল, চুলময় এবং দিনের আলোয় দেখার না দেখাই ভাল।
বাজার সদাই
একজন মহিলা বাজার করবার আগে একটা ফর্দ তৈরী করেন এবং বাজারে গিয়ে টুক করে সেই জিনিসগুলো কিনে এসে পড়েন। পুরুষেরা এক্ষেত্রে খুব ধৈর্য্যশীল। তারা ফ্রিজে আধখানা কমলা বা খাবার পচে সবুজ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে। তারপর তারা বাজারে যায় এবং যা কিছু পছন্দ হয় সব কিনতে থাকে। যখন চেকআউট কাউন্টারে যায় তখন তার কার্ট বা বাজারের থলি একজন মোটা মানুষের মত ঠাসা এবং উপচে পড়ো পড়ো। অবশ্যই ব্যাপারটা তাকে ১০-আইটেমের-চেয়ে-কম লাইনে দাঁড়াতে বাধা দেয় না।
বিড়াল
মেয়েরা বিড়াল ভালবাসে। ছেলেরা বলে তারা বিড়াল ভালবাসে, কিন্তু নারীদের চোখের আড়াল হলেই লাথি কষায় দাঁত মুখ খিঁচে।
টেলিফোন
টেলিফোন ছেলেদের জন্য একটি যোগাযোগ রক্ষাকারী যন্ত্র। তারা ছোটখাট সংবাদ আদান প্রদানের কাজে ব্যবহার করে এটাকে। অন্যদিকে মেয়েরা এক বান্ধবীর বাসা থেকে দুসপ্তাহ ঘুরে আসে এবং এসেই সেই বান্ধবীকে ফোন করে ঘন্টা তিনেক কাটিয়ে দেয়।

ভুল স্বীকার
মেয়েরা মাঝেসাঝে ভুল স্বীকার করে। কিন্তু জেনারেল জর্জ ক্যাস্টার হচ্ছেন শেষ পুরুষ যিনি ভুল স্বীকার করেছিলেন।
সন্তান
একজন মহিলা তার বাচ্চাদের সব ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। কখন বাচ্চাদের দাঁতের ডাক্তারের কাছে নিতে হবে, তাদের ফুটবল খেলা, প্রেম, সেরা বন্ধু সব খবর তার কাছে। অন্যদিকে পুরুষের কাছে সন্তনরা কিছু ছোটখাট অবয়বের আবছা ছবি।

সাজগোজ
একজন মহিলা সাজগোজ করে যখন সে: কেনাকাটা করতে, গাছে পানি দিতে, ঘরের ময়লাটা ফেলতে, ফোন ধরতে, বই পড়তে কিংবা চিঠিপত্র আসল কিনা দেখতে যায়। একজন ছেলে সাজগোজ করে শুধুমাত্র বিয়েতে এবং কারো ফিউনারেলে।
চলচিত্রে নগ্নতা
চলচিত্রের ইতিহাসে হলিউডের সব অভিনেত্রীকে অন্ততঃ একবার নগ্ন পোজ দিতে হয়েছে। কারন আর কিছুইনা, সব গুলো ছবির পরিচালক পুরুষ বলেই এমনটা হয়েছে।
রাজনীতি
পুরুষেরা রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে বিমলানন্দ বোধ করে, কিন্তু প্রায়শই তারা নাগরিক দায়িত¡ পালন যেমন ভোট দিতে ভুলে যান। মহিলারা কিন্তু খুশী যে নতুন জেনারেশনের হবু নেতারা সব পুরুষ। তাই মহিলারা রাজনীতি নিয়ে মেতে উঠছেন, যাতে তারা ভোটের সময় তাদের হয়ে হৈচৈ করতে পারেন এবং ফলাফল ঘোষনার সময় চোখের পানি ফেলতে পারেন।
আড্ডা
পুরুষেরা তিনটা বিষয় নিয়ে আড্ডা দেয়: অর্থ, ক্রিকেট আর নারী। অর্থ নিয়ে আলোচনার বেশীরভাগই চাপা, ক্রিকেট নিয়ে আসলে তারা তেমন জানেন না যেমনটা তারা ভাব ধরেন, আর নারীদের নিয়ে মনে মাধুরী মিশিয়ে গল্প বানান। নারীদের আড্ডা বিশেষ করে একান্ত আড্ডাগুলোর বিষয় একটাই - সেক্স। কিন্তু সে আলোচনা গুলো আকারে ইঙ্গিতে হয় না, বরং সেগুলো সচিত্র এবং টেকনিক্যাল।
কাপড় ধোয়া
মহিলারা কয়েকদিন পরপরই ফুটফাট করে কাপড় ধোয়। আর ছেলেরা কাপড় ধোয়ার আগ পর্যন্ত প্রানপন চেষ্টা করে যাবে কি করে সেটাকে এড়ানো যায়। সেজন্যে সে তার স্টকের শেষ কাপড়টা পর্যন্ত পরবে যেটা কিনা আট বছর আগে তার কোমরে আঁটতো। শেষে যখন তার কাপড়ের ভান্ডার শেষ হয়ে যাবে তখন সে ঘরে পরার গেঞ্জি একটা উলটো করে পরে একটা ট্রাক ভাড়া করে তার পাহাড় সমান কাপড় লন্ডিতে নিয়ে যাবে। আর পুরুষেরা সবসময় আশা করে যে সে লন্ডিতে গেলে খুব সুন্দরী কারো সাথে রোমানস হয়ে যাবে। বলা বাহুল্য এটি একটি মিথ।
খেলনা
ছোট্ট মেয়েরা খেলনা নিয়ে খেলতে ভালবাসে। বয়স ১১-১২ হলেই তাদের আগ্রহ কমে আসে। পুরুষ কখনও তাদের খেলনাপ্রীতি থেকে বের হয়ে আসতে পারে না। যতই তারা বড় হতে থাকে তাদের খেলনা গুলো ততই জটিল এবং বাস্তব ব্যাবহারের অনুপযুক্ত হতে থাকে। পুরুষের খেলনার উদাহরন হচ্ছে: খুদে টিভি, কার ফোন, জটিল কার্যপ্রনালী সম্বলিত জ্যুসার এবং ব্লেন্ডার, গ্রাফিক ইক্যুয়েলাইজার, ছোট্ট রোবট যেটা ককটেইল সার্ভ করতে পারে, ভিডিও গেমস, আর কোন কিছু যেটা ব্লিপ শব্দ করতে পারে, পিত পিত করে আলো দিতে পারে এবং কমপক্ষে ৬ ব্যাটারীর নিচে চলে না।

গাছ
একজন মহিলা একজন পুরুষকে ছুটিতে সপ্তাহখানেক ঘুরতে যাবার আগে বলে যায় গাছে পানি দিতে। পুরুষটা গাছটাকে ঠিকই পানি দেয়। পাঁচ দিনের মাথায় মহিলাটি এসে দেখে যে বাড়ি ভর্তি মৃত গাছ। এক হিমু ছাড়া আর কেউ জানেনা কিভাবে এটা হল।
ডাকনাম
একমাত্র মহিলা বডি বিলডার যারা নিজেদের 'আলটিমেট পেক', 'বিগ টার্ক' ইত্যাদি নামে সম্বোধন করেন তারা ছাড়া অন্য মহিলারা খুচরা নামে ডাকাটাকে পছন্দ করেন না। যদি ময়না, সখিনা আর জরিনা লাঞ্চ করতে একসাথে হয় তাহলে তারা নিজেদের ময়না, সখিনা আর জরিনা বলেই ডাকবে। কিন্তু যদি আবুল, বাবুল, দবির আর ছগির একসাথে হয় তাহলে তারা পরস্পরকে 'ভোঁতা ছাগল', 'হনুমান', 'পিনাট ব্রেইন', আর 'অপদার্থ' বলে ডাকবে।
গোঁফ
কিছু কিছু পুরুষকে গোঁফে মন্দ লাগে না। যেমন জাফর ইকবাল, সাইমুম ভাই। কিন্তু এমন কোন মহিলা নেই যাকে গোঁফে ভাল লাগে।
(এই লেখার উদ্দেশ্য নির্মল আনন্দ। মূল ইংরেজী লেখাটি পাবেন এখানে। আমার ধারনা ইংরেজী লেখাটি কোন একজন মহিলারই লেখা।)
(প্রথম প্রকাশ সামহোয়্যার ইন ব্লগ পর্ব-১: ২০০৬-০৫-২১, পর্ব-২: ২০০৬-০৫-২২, পর্ব-৩: ২০০৬-০৫-২৩)
টি মন্তব্য:
<< নীড়পাতা