একটি তারকার জন্ম ও আমাদের বিস্ময়


আমি যে ইউনিভার্সিটিতে পড়ছি সেখানে বাঙ্গালী ছাত্র নেহায়েত কম নেই। মিথোজিবীতার নিয়ম মেনে আমরা দলবদ্ধভাবে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে সুখে শান্তিতে বাস করি। আমার বউ আসার পর পরই ছাত্র কমপ্লেক্সে আরেকটি নতুন মুখের আগমন ঘটল। ইদ্রিস ভাইয়ের বউ, ববি ভাবী আসলেন প্রায় একই সময়ে।

নতুন মানুষ আসলে যা হয়, উইকএন্ডে পরিচয় পর্ব, আড্ডা। তখনই জানতে পারলাম যে ববি ভাবী গান করেন। গান শুনে তো আমরা চমকে উঠলাম। কি অসাধারন গায়কী আর সুরের খেলা! আহা! আপনাদের কারো যন্ত্রাংশ ছাড়া সামনা সামনী ভালো কোন গায়ক বা গায়ীকার গান শোনার অভিজ্ঞতা আছে কিনা জানি না। যদি থাকে তাহলে বুঝবেন, পুরো শরীর যেন ঝংকার দিয়ে ওঠে তখন। বাইরে ঝুম বৃষ্টি।

তারপর পরই তো আমরা ববি ভাবীর ফ্যান হয়ে গেলাম। যে কোন অনুষ্ঠান হলেই ববি ভাবীর গান আমাদের শোনা চাইই। জানলাম যশোরের মেয়ে ববি ভাবী বিটিভির এনলিস্টেড গায়িকা ছিলেন। সৎ স্কুল শিক্ষক বাবার স্বপ্ন পুরনে গান শেখায় হাতে খড়ি ববি ভাবীর। এলেম নিয়েছেন ফেরদৌস আরা আর অনীল কুমারের মত সঙ্গীত ব্যাক্তিত্বের কাছ থেকে। ইডেনে পড়ার সময় প্রধানমন্ত্রীর হাতে পুরষ্কারও পেয়েছিলেন।

তখনও কি জানি যে আমাদের জন্য আরেকটা চমক অপেক্ষা করছিল। এবারে ক্লোজ আপ ওয়ান যখন আমাদের শহরে আসল তখন জানতাম যে ববি ভাবীর নির্ঘাত পার হয়ে যাবেন। কিন্তু সমগ্র আমেরিকা থেকে যখন একমাত্র প্রতিযোগীনী হিসেবে ভাবী সিলেক্টেড হলো আমরা তো থ!

তারার জন্ম দেখিনি কখনো। দুর থেকে দেখেছি কেবল। বড় সাধও হয়েছে কখনও কখনও ছুঁয়ে দেখি। কিন্তু ববি ভাবীকে যখন ক্লোজ আপ ওয়ানের ভিডিওতে দেখলাম তখন ভেবেছি এভাবেই জন্ম হয় একটি তারার!

১। বিডি বাংলায় ববি ভাবীর ক্লোজআপ ওয়ান ভিডিও। দেখতে হলে রেজিষ্টার করতে হবে আপনাকে। ভিডিওটি এখানে ক্লিক করে তারপর Close up 1 2006 Uk & USA Rounds and 3rd Round Practice ক্লিক করেও দেখতে পারেন।

২। ক্লোজ আপ ওয়ানের ভোট দেবার ওয়েবসাইট

যদি ভালো লাগে ফারজানা ববি ভাবীর গান অনুরোধ রইল ভোট দেবার, একটি নয় যতগুলো আপনার পক্ষে সম্ভব ততটা। উনি আছেন গ্রুপ ডি তে। প্রমান করে দিন আমরা প্রবাসে বলেই পর করে দেননি আমাদের। বাংলাদেশ!, সেতো ছড়িয়ে আছে পুরো পৃথিবীরই বুকে।

(প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যার ইন ব্লগ ২০০৬-১০-০৫)

আমেরিকা - একটি স্বপ্নের দেশ (১)


দেশ ত্যাগ বড় কস্টের। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর ভাগ্য নির্ণয়ের খেলায় যখন নামলাম তখন নিজের পছন্দের বিষয় বির্সজন দিয়ে যন্ত্রকৌশল বেছে নিলাম, ঐ ইউনিভাসির্টি থেকে পাশ করে বেরুলে চাকরীর কোন অসুবিধা হবেনা ভেবে। কিন্তু পাশ করে বেরুনোর পর ঠোকর দিল নির্মম বাস্তব। কেউ কেউ তো মুখের উপর বলেই দিল আপনারা তো ভাই দেশে থাকবেন না। কেউ কেউ বেতন সাধল খুবই লো প্রোফাইলের। এরা যেন আমাদের জোর করে দেশ থেকে বের করে দিতে চায়!

অগত্যা বাধ্য হয়েই শুরু করলাম IELTS, TOEFL আর GRE। আমেরিকা মুখ্য ছিল না, ছিল দেশ ছাড়ার তাগিদ, ভাগ্যের অন্বেষনে। চারটি দেশে যাবার সুযোগ আসল, বেছে নিলাম আমেরিকা।

কিন্তু হায়, বাস্তব এখানেও বড় কঠিন। বাবার দেয়া সারাজীবন জমানো টাকায় এক সেমিস্টারের টিউশন ফি তো ঠিকই দিলাম কিন্তু থাকা, খাওয়ার খরচ? দেশে তো মধ্যবিত্ত সচ্ছল ঘরের আদরের সন্তান ছিলাম। মা এক গ্লাস পানিটি পর্যন্ত এনে দিয়েছে, কিছুই করতে হয়নি নিজেকে, আর এখানে দিন চলবে কিভাবে থেকে সুরু করে বাথরুম পরিষ্কার পর্যন্ত নিজেকে করতে হয়। যাই হোক এক প্রফেসরকে পেলাম যার ছাত্র দরকার, কেননা তার ব্যবহার এত খারাপ যে কেউ তার কাছে থাকতে চায় না। কিন্তু আমার তো জীবন মরন সমস্যা, সুতরাং রাজী হয়ে গেলাম কাজ করতে। আমার ইচ্ছা ছিল রোবোটিক্স এ কাজ করব, কিন্তু আবারও ভাগ্যের তাগিদে শুরু করলাম কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন এন্ড ম্যানুফেকচারিং এ, তাও আবার মার্কা মারা এক প্রফেসরের সাথে। একেই বলে নিয়তি, কাকে কোথায় নিয়ে যায় কেউ বলতে পারে না।

দেড় বছর হতে চলল মাকে দেখিনা। সেদিন এক সহ ব্লগারের মা সংক্রান্ত পোস্ট পড়ে আর থাকতে পারলাম না ... আগামী ডিসেম্বরে হয়ত দেখব মাকে।

এত ত্যাগের পর কেউ কেউ দেশে ফিরে, শুরু করতে চায় নতুন জীবন, এত কষ্টের বিনিময়ে আশা করে একটু ভাল অবস্থান। কিন্তু সব সম্ভবের দেশে কেউ কটু কথা শোনাতে ছাড়েনা।

আমেরিকা খারাপ হতে পারে, আমিও এতে একমত। কিন্তু আমরা আমেরিকা এসে কি দোষ করলাম। লোকজন তো অন্যান্য দেশেও যায়, কষ্টেও থাকে, তাদের দিকে কেন কেউ আঙ্গুল তোলে না! যত দোষ আমেরিকা প্রবাসীর?

দয়া করে কেউ ব্যক্তিগত ভাবে নিবেন না। আমোরিকার আরো বিষয় নিয়ে লেখার ইচ্ছে রইল।

(প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যারইন ব্লগ ২০০৬-০৪-০২)

মাদাম তুসোর জাদুঘর - নিউইয়র্ক


এবার শীতে নিউইর্য়কে গিয়েছিলাম। ভাবলাম মাদাম তুসোর জাদুঘরে যাই। গিয়ে তো টাসকি খেয়ে গেলাম। অনেক টাকা টিকেট কিন্তু পুরোটাই উসুল। আরো একটা মজার ব্যাপার পেলাম, 3D ছবি। একটা কাঁচের ব্লকে আমাদের 3D ভরে আমাদের কাছ থেকে ছিলে টাকা নিয়ে নিল। আর আমরাও ধেই ধেই করে বাড়ি ফিরে আসলাম।

রকের সাথে

বিল গেটসের মুর্তির সাথে

(প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যারইন ব্লগ ২০০৬-০৪-০২)

নস্টালজিয়া - ২

যেবার কক্সবাজার গেলাম সেবার ঠিক হলো ছাগলা নামে খ্যাত বন্ধুটির ছাগলা দাঁড়ি কর্তন করা হবে। এক বন্ধুর চট্টগ্রামের বাড়িতে উঠেছি আমরা। রাতে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়লে পাকড়াও করলাম ছাগলাকে। আমরা কাটবই দাড়ি। আমি ঠিক পিছন থেকে আর দুজন দুপাশ থেকে চেপে ধরলাম ব্যাটাকে। ব্যাটা যখন অসহায় তখন শুরু হল দাড়ি কাটা। কিন্তু হঠাৎ অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি মনে হল ব্যপারটা। আমরা ছেড়ে দিলাম ব্যাটাকে। তার সেই দাড়ি এখনও কেউ কাটতে পারেনি।

আহ, সেই যে আমার নানা রঙের দিনগুলি ...

বিঃদ্রঃ প্লিজ দাড়ি নিয়ে লেখায় কেউ কিছু মনে করবেন না। আমি কাউকে আঘাত দেবার জন্য কিছু লিখিনি।

(প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যারইন ব্লগ ২০০৬-০৪-০২)

নস্টালজিয়া - ১

সমুদ্রের কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ মনে পড়ে গেল বন্ধুদের কথা, ইউনিভাসির্টির দিনগুলোর কথা। কত আনন্দইনা করতাম। হাসি ঠাট্টা আর আহসানউল্লাহ হলের আড্ডা। টার্ম শেষে বিদায়ী ছাত্রদের কনসার্ট উপলক্ষ্যে আমরা হলে থাকতাম আর হতো সারারাত আড্ডা। কখনও কখনও থাকত পানীয়।

একবার অনেক রাতে খিদে পেয়ে গেল। তখন সোহরাওয়াদীর্র এক বন্ধু জুয়েলের রুমে আমি উঠেছি। সবাই মিলে গেলাম পলাশীর মোড়ে, কিছু খাব বলে গেলাম। খেয়ে দেয়ে ফিরছি হঠাৎ কি মনে হল বুয়েটের সামনের রাস্তায় শুয়ে পড়লাম। সেই সাথে আমার আরেক বন্ধুও শুয়ে পড়ল। শুয়ে শুয়ে আমরা চঁাদ দেখলাম। সে কি এক পাগলামী!

(দীর্ঘশ্বাস) বন্ধুরা তোরা কোথায় গেলি! কেন দুঃখ দিলি এমন ...

(প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যারইন ব্লগ ২০০৬-০৪-০২)

স্যান দিয়েগোর রিক্সা


এবারে ক্যামেরাবন্দী করেছি স্যান দিয়েগোর রিক্সাকে। সাদা লোকটাকে রিক্সাওয়ালা বেশে একদমই মানাচ্ছিল না। :)

(প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যারইন ব্লগ ২০০৬-০৪-০২)

স্যান দিয়েগো সমুদ্র দর্শন


পরের দিন আমরা গেলাম স্যান দিয়েগো সমুদ্র দেখতে। অসাধারন জায়গা। বহুবছর আগে দেখা কক্সবাজারের কথা মনে পড়ে গেল। তবে এখানে সেইফটি আর ভ্রমনের ব্যবস্থা এতো ভাল যে পুরো ব্যাপারটা খুব এনজয় করা যায়।

(প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যারইন ব্লগ ২০০৬-০৪-০২)

Labels:

সিক্স ফ্ল্যাগস: লস অ্যানজেলস


গত স্প্রিং ব্রেক এ গিয়েছিলাম একটা অ্যামিউজমেন্ট পার্ক সিক্স ফ্ল্যাগস এ। অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা। ওখানে প্রায় ১০/১২ টার মত রোলার কোস্টার আছে। সবচেয়ে ভয়াবহটার নাম এক্সট্রিম। এটার চেয়ার গুলো প্রধান কোস্টারের সাপেক্ষে স্বাধীনভাবে ঘুরতে পারে। ২০০ ফিট উপরে তুলে চেয়ারটাকে ঘুরিয়ে মাটির দিকে তাক করে ফেলে দিল। ভাইরে ভাই মনে হলো পুরো মাটির ভিতর সেঁদিয়ে যাচ্ছি ...

এছাড়া আরো আছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রোলার কোস্টার, বাঁদুড় ঝোলা রোলার কোস্টার, সাইক্লোন, ডেজাভু, সাপের মতো রোলার কোস্টার, এবং আরো অনেক। রোলার কোস্টার ছাড়া আরো আছে ৩ সেকেন্ডে গতি ১০০ মাইল বেগে চলে যায় এবং শেষে ৬ সেকেন্ড ওজনশূন্যতার অনুভুতি এরকম একটি রাইড, ফ্রিফল - অনেক উঁচু থেকে ফেলে দেয়, ডাইভ ডেভিল - কোমরে দড়ি বেঁধে ফেলে দেয় এবং আরো অনেক।

সেছিল এক অসাধারন মজার একটা অভিজ্ঞতা। সময় এবং সুযোগ পেলে যেতে ভুলবেন না যেন। আর সাহস করে চড়তেও ভুলবেন না। জীবন তো একটাই ....

(প্রথম প্রকাশ: সামহোয়ারইন ব্লগ ২০০৬-০৩-০৮)

আইস এইজ: দি মেলটডাউন


গতকালকে রিলিজের প্রথম দিনই দেখতে গেলাম ছবিটা। ভালই লেগেছে। ম্যমথ ম্যানি এই ছবিটির প্রধান ভুমিকায়। আইসএইজ এর শেষে বরফ গলে সমস্ত উপত্যকা ভাসিয়ে দেবে এই ভয়ে সমস্ত প্রানী নিরাপদ আশ্রয় এর সন্ধানে ছোটে। এই সময় ম্যমথ প্রজাতির শেষ বংশধর খুঁজে পায় এক কাঠবেড়ালী ধরনের প্রানী, নাম তার অ্যালি! নাকি আরেকটি নারী ম্যমথ? কিন্তু তাকে সেকথা বোঝাবে কে? শেষ পর্যন্ত ম্যমথের বংশরক্ষা হবে তো?

(প্রথম প্রকাশ: সামহোয়ারইন ব্লগ ২০০৬-০৪-০২)

স্প্রীং ব্রেক


আগামী সপ্তাহে স্প্রিং ব্রেক। পরীক্ষা, হোমওয়ার্ক আর রিসাচের্র কাজ মোটামুটি শেষ। ভাবছি স্যান দিয়েগো যাব। ওখান থেকে এল এ, সিক্স ফ্ল্যাগস এ...

সিক্স ফ্ল্যাগস হচ্ছে পৃথিবীর সবথেকে ভয়াবহ এমিউজমেন্ট (!) পার্ক গুলোর মধ্যে অন্যতম। ফ্রি ফল, রোলার কোস্টার গুলোর বর্ণনা শুনে তো আমার পেটের মধ্যে হাত পা সেঁধিয়ে যাচ্ছে। তাও একটা উত্তেজনা অনুভব করছি।

আবার কয়েকদিন আগে ঘটে যাওয়া একসিডেন্টটা থেকে থেকে মনে পড়ছে। লং ড্রাইভে যেতে হবে ভাবলে গলা শুকিয়ে আসছে। যাই হোক আললাহ ভরসা। ভাইসব দোয়া রাইখেন যেন সুস্থভাবে ফিরতে পারি।

(প্রথম প্রকাশ: সামহোয়ারইন ব্লগ ২০০৬-০৩-০৮)

নিউইর্য়কের রিক্সা


নিউইর্য়কে ঘুরতে এসে অনেক কিছু দেখেই মুগ্ধ হয়েছি। কিন্তু অবাক হয়েছি এই রিক্সাগুলো দেখে। ম্যানহাটানের সঙ্কীর্ন রাস্তায় দাপটের সাথে চলছিল। আমি দেখে সাথে সাথে ক্যামেরা বন্দী করলাম। আমরা যে খানটায় থাকি, সেখানেও মাঝে মাঝে বাইসাইকেল-কাম-রিক্সা দেখা যায়। সে সময়গুলোতে হাতে ক্যামেরা থাকেনা বলে ছবি তুলে রাখা হয়নি। সুযোগ পেলে ছবি তুলে পোস্ট করব।

(প্রথম প্রকাশ: সামহোয়ারইন ব্লগ ২০০৬-০২-০৮)