আমেরিকা - একটি স্বপ্নের দেশ (২)

এইখানে বুড়াবুড়ি গুলা খুব racist। আমেরিকা আসার পর পর একবার জরুরী দরকারে, আমার রিসার্চ ল্যাব যেখানে সেখানকার এক হেল্প সেন্টারে গেলাম। তখনও আমার ইংরেজী অতটা পরিষ্কার হয়নি। তো যে বুড়িটা ডেস্কে বসে ছিল তাকে বললাম আমার একটা প্রজেক্টর লাগবে। এখানে প্রজেক্টরকে প্রক্সিমা বলে। আমরা যেমন কার লুব্রিক্যান্টকে মবিল বলি অনেকটা সেইরকম। যাই হোক বুড়ি খ্যাঁচ করে উঠল - whaaat?।
আরেকবার এক লন্ড্রিতে গেলাম এক বড় ভাইয়ের সাথে। তো লন্ড্রিগুলো টাকা থেকে কয়েন করার ব্যবস্থা থাকে, ওয়াশিং মেশিনগুলো কয়েনে চলে। অনেক সময় মেশিন ব্যবহার করে কয়েন বের করতে হয় আবার অনেক সময় দোকানের কারো কাছ থেকে নিতে হয়। তো এখানে দোকানের এক বুড়া বসে ছিল তার কাছ থেকে নিতে হবে। আমাদের অন্য একটা কাজে কিছু কয়েনের দরকার ছিল, দ্বিতীয়বার চাইতেই ব্যাটা খ্যাঁচ করে উঠল।
একবার আমরা এক চায়নীজ ব্যুফেতে গেছি। আমার বৌ সাথে, সালোয়ার কামিজ পরা। এক বুড়ি আমার বৌকে জিজ্ঞেস করল, তুমি কোন দেশ থেকে? পাকিস্থান? সে বলল না আমি বাংলাদেশ থেকে। বুড়ির প্রতিক্রিয়া - where the hell is that?।
এবারে যখন নিউইর্য়ক গেলাম এক দোকানে খেতে বসে এক আমেরিকান বুড়োর সাথে কথা। ব্যাটা জোর করে কথা বলতে লাগল। আগে নিউইর্য়ক কত ছিমছাম ছোট্ট শহর ছিল আর এখন কত্ত বিশাল, ২৪ ঘন্টা খোলা একটা শহরে পরিণত হয়েছে। দুনিয়ার হেন দেশের মানুষ নাই যে এখানে নাই। কথা সত্য কিন্তু তার কথায় racism এর প্রভাবটা অগ্রাহ্য করতে পারলাম না।
(প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যারইন ব্লগ ২০০৬-০৪-০২)
Labels: আমেরিকা