এলিস আইল্যান্ড



হাডসন নদী এবং নিউইর্য়ক হারবারে ঢোকবার পথে এলিস আইল্যান্ড নামে ছোট্ট একটা দ্বীপ আছে। উনবিংশ শতকের শেষ থেকে বিংশ শতকের গোঁড়ার দিক পর্যন্ত এই দ্বীপের একটা বড় ভূমিকা ছিল ইমিগ্রেশন পোর্ট হিসেবে। বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ আসত এখানে আর তাদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা হত তাদের শরীর স্বাস্থ্য ভাল কিনা। রোগী হলে তাকে সেখান থেকেই বিদায় নিতে হতো। সেই প্রথা আর নেই এখন। অসুখ-বিসুখের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মানুষ এখন অনেকাংশে জয়ী। এলিস আইল্যান্ডে অবস্থিত সেই ইমিগ্রেশন অফিস এখন একটা মিউজিয়াম মাত্র।

বর্তমানে আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে ভাল ভাল ছাত্ররা পড়তে আসে। এখানে তাদেরকে প্রমান করতে হয় তারা কতটুকু যোগ্য। মানসিক স্বাস্থ্য ভাল হলে তবেই তারা পায় বিভিন্ন রকম কাজ, স্কলারশীপ আর পড়াশুনা করে এগিয়ে যাবার সুযোগ। আর ইমিগ্রেশন অফিসারের ভুমিকায় অভিনয় করেন প্রফেসররা। যে টিকবে না তার জন্য সোজা দেশ।

প্রতিটি আমেরিকান ইউনিভাসির্টি যেন এক একটি এলিস আইল্যান্ড


(প্রথম প্রকাশ সামহোয়্যার ইন ব্লগ ২০০৬-০৬-১৭)

ওয়ালমার্ট - চরম পুজিঁবাদের অনন্য উদাহরন



ওয়ালমার্ট হচ্ছে আমেরিকার খুচরা জিনিস পত্রের একটি দোকান বা দোকান সমষ্টি মিলে একটি কোম্পানী। স্যাম ওয়ালটন কতৃর্ক ১৯৬২ তে স্থাপিত এই কোম্পানী এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে খুচরো জিনিসপত্রের সবচে বড় ব্যাপারী। সহজ কথায় বলতে গেলে ক্যাশ বা তরল টাকার মাপে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতী তেল কোম্পানী গুলোর দাপট বাড়ার আগে ২০০৪ পর্যন্ত রেভিনিউয়ের হিসাবে এটি ছিল সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান। আরো বিস্তারিত পাবেন এখানে: http://en.wikipedia.org/wiki/Wal-Mart

এই উত্থানের পিছনে কি আছে? এত টাকা আসে কোথা থেকে? তার আগে আসুন সাধারন ব্যবহারকারী হিসেবে একটা খুচরো জিনিসপত্রের দোকান থেকে আপনার প্রত্যাশা কি কি সেটা নথিবদ্ধ করা যাক:

১। জিনিসপত্রের দাম সস্তা হতে হবে। নিশ্চিন্তে নির্ভর করা যাবে যে দাম যেটা পাব সেটা বাজারের সবচেয়ে কম দাম। এ দোকান ও দোকান ঘুরে যাচাই করবার প্রয়োজন পড়বে না।

২। সব জিনিস এক জায়গায় পাওয়া যাবে। একেকটা জিনিসের জন্য একেক জায়গায় যাওয়া লাগবে না।

৩। হাতের কাছে থাকতে হবে। একটা জিনিস কিনতে শত শত মাইল পাড়ি দেবার মানে হয় না।

৪। চব্বিশ ঘন্টা দোকান খোলা থাকতে হবে। যখন সুবিধা তখন গিয়ে শপিং করতে চাই।

৫। কাস্টোমার সাভির্স ভাল থাকতে হবে। জিনিস পত্র নষ্ট হলে ফিরত দিতে হবে।

৬। জিনিস পত্র ভাল দিতে হবে। সস্তা জিনিসের পাশাপাশি দামী অপশনও রাখতে হবে।

ওয়ালমার্ট এই সবগুলো অপশন কাঁটায় কাঁটায় মিলিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে। চীন, ইন্ডিয়া, তাইওয়ান এসব জায়গা থেকে সস্তায় প্রোডাক্ট বানিয়ে নিয়ে এসে নিশ্চিত করছে সবচেয়ে সস্তা দামের ব্যাপারটা। দুনিয়ার হেন প্রোডক্ট নেই যেটা ওয়ালমাটের্ পাওয়া যায়না। আমেরিকার প্রায় প্রতি ৫০-১০০ মাইলে একটা করে ওয়ালমার্ট পাওয়া যাবে। সুতরাং চাইলেও চলে যাওয়া যায় ওয়ালমাটের্। চব্বিশ ঘন্টা খোলা থাকে তাই যাওয়া যায় যখন তখন। সাভির্স তাদের মোটামুটি ভাল বলা যায়। আর জিনিস পত্রের ক্ষেত্রে ভাল জিনিস কেনার অপশনটা আপনার থাকে।

তাহলে ওয়ালমাটের্র প্রতি সবাই এত ক্ষ্যাপা কেন? কেন নিউইর্য়কে ওয়ালমাটের্র প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে?

আয়তনে মাইল খানেক লম্বা একেকটা ওয়ালমার্ট যখন প্রতিষ্ঠা করা হয় কোন একটা এলাকায় তখন সে এলাকার ব্যবসায়ীদের কান্নাকাটি লেগে যায়। কেননা আর কেও তো তখন ওয়ালমার্ট ছেড়ে তাদের দোকানে আসবে না। ওয়ালমাটের্র সাথে পাল্লা দেয়াও তো চাট্টিখানি কথা নয়। বিশ্বব্যাপী নেটওয়াকের্র মাধ্যমে সবচেয়ে কম দামে জিনিস দিতে পারে তারা। ছোট্ট দোকান টিকবে কি করে?

বাইরে থেকে জিনিস পত্র তৈরী করিয়ে নিয়ে এসে ওয়ালমার্ট আমেরিকা থেকে সব কাজ বাইরে বের করে নিয়ে যাচ্ছে। কমছে কাজ, কমছে শ্রমের দাম।

দাম কমাতে গিয়ে তাদের ছাঁটতে হচ্ছে কর্মচারীদের বেতন মাত্রা। শুনেছি এখানকার শ্রমিকরা ওয়েল পেইড নয়।

অতি সস্তায় জিনিস দিতে গিয়ে কিন্তু জিনিস পত্রের গুনগত মান একেবারে যাচ্ছেতাই হয়ে যাচ্ছে। দশটা জিনিস কিনলে দুটা খারাপ জিনিস বদলাতে আবার যেতে হয় ওয়ালমার্ট। আর একারনে একটু সচ্ছল যারা তারা বেশ অপচ্ছন্দই করেন ওয়ালমার্টকে।

এভাবে ওয়ালমার্ট গরীবদের নিম্নমানের জিনিস গছিয়ে দিয়ে হচ্ছে টাকার পাহাড় আর আমেরিকাকে করছে কৃত্রিম ভাবে অপরের উপর নির্ভরশীল।

(প্রথম প্রকাশ সামহোয়্যার ইন ব্লগ ২০০৬-০৬-১৫)

খেলতে যাবে ছোট্ট লরা



আমিনা বিত্থকাপ দেখে দেখে ঠিক কলেথি আমিও খেলতে দাব। তাই এখন থেকে খালি প্যাত্তিস আর প্যাত্তিস। প্যাকতিস থালা কিথু হয় বল? মেয়ে বলে তোমলা আমাকে আল আটকে লাখতে পালবে না। আমি একদিন থত্তি থত্তি বিত্থকাপ নিয়ে আসব, দেখো তোমলা।

(প্রথম প্রকাশ সামহোয়্যার ইন ব্লগ ২০০৬-০৬-১৫)

অপছন্দ - আমেরিকান বনাম বাংলাদেশী



গতসপ্তাহের আগের রবিবার আড্ডা বসেছিল এক বাঙ্গালী ভাইয়ের বাসায়। চলছিল মুড়ি-আচার-চানাচুর মাখা আর রুহ-আফজা। সেই সঙ্গে তুমুল আড্ডা। হঠাৎ আড্ডায় হাজির এক ভাইয়ার আমেরিকান বন্ধু জো (ধরুন) আর তার বন্ধু জ্যাক (ধরুন)। দুই বেটাই মহা আড্ডাবাজ। আগের পোস্টটাতেও লিখেছি এদের নিয়ে।

এই বিষয় সে বিষয় করে কথা হতে হতে তারা এক পযার্য়ে জিজ্ঞেস করল যদি তারা কখনও আমাদের দেশে যায় তাহলে কি কি কাজ তাদের করা উচিৎ হবে না। আমাদের নিষেধ গুলো ছিল:

১। ছেলেদের হাত ধরে, কাঁধ ধরে ঘুরতে পারেন, কিন্তু মেয়েদের সাথে অমনটি করা যাবে না।

২। বাম হাত দিয়ে কিছু দেয়া যাবে না।

৩। কাউকে ডিঙ্গিয়ে যাওয়া যাবে না।


তখন আমরা আবার জিজ্ঞেস করলাম আমাদের কি কি ব্যাপার তাদের কাছে খারাপ লাগে। তারা যেগুলো বলল সেগুলো সাধারন ভাবে ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্টের সবার উপর প্রযোজ্য হয়। ওদের যেগুলো পছন্দ হয়না:

১। ছেলেরা কাঁধে বা হাতে হাত রেখে চলা। গের পরিচয়।

২। স্কার্ট পরা মেয়েদের মত পায়ের উপর পা দিয়ে বসা। এটাও গের পরিচয়।

৩। গন্ধের ব্যাপারে আমেরিকানরা খুব সেনসিটিভ। গায়ের গন্ধ, মুখের গন্ধ এসব খুব বিরক্তির উদ্রেগ করে তাদের।

৪। প্রকাশ্যে নাক খোটানো, দাঁতে খাবার লেগে থাকা, ডাবল ডিপিং এধরনের হাইজিন বিষয়ক ব্যাপার গুলো খুব অফেন্ডিং।

৫। বডি সাউন্ড যেমন ঢেকুর তোলা, ফার্টিং এসব করা বিরক্তিকর। করলেও এক্সিউজমি বলে নিতে হবে।

৬। ভাল কোন খাবারের ক্ষেত্রে যেখানে চামচ ব্যবহার হচ্ছে সাধারন ভদ্রতা সেখানে হাত দিয়ে খাওয়া কাম্য নয়।

এই অভ্যাসগুলো কিন্তু এমনিতেও খারাপ। আমাদের আসলে অভ্যাস করা উচিৎ এই ধরনের অভ্যাস পরিত্যাগ করা।


(প্রথম প্রকাশ সামহোয়্যার ইন ব্লগ ২০০৬-০৬-১৩)