পিএইচডি করব কি করব না?


না এই পোস্টটি কোন ভ্রমন কাহিনী নয়। কিংবা নয় কোন সমাজ বিশ্লেষণ। কেবল নিজের একটি জিজ্ঞাসা আপনাদের কাছে উপস্থাপন।

আমার মন বলে পিএইচডি করা উচিৎ। পরিস্থিতি বলে না চাকরীতে ঢুকে পড়। আরো সাড়ে তিন বছর নষ্ট বা ইনভেস্ট করে লাভ কি? আমি বিবাহিত, আমার ইমিডিয়েটলি জীবন শুরু করা দরকার। আর কত পড়াশুনা?

আপনারা যারা পিএইচডি করছেন তারা কি বলেন? যারা করছেন না তারাই বা কি ভাবছেন? আপনাদের আলোয় একটু পথ দেখান।


মন্তব্যসমূহ

জ্বিনের বাদশা বলেছেন:
২০০৬-০৬-০৫ ১১:০৬:২২

আপনার নিজের ডিসিশানটাই সবচেয়ে বড়।
তবে আমার এক্সপিরিয়েন্স থেকে দুটা কথা বলতে পারি:
যদি মনে করেন যে একবার পড়াশোনা থেকে ব্রেক নিলে আবার ব্যাক করাটা কোন সমস্যা না তাহলে পি.এইচ.ডি-র আগে বছর তিনেক চাকুরী করে নেয়া ভাল।
তবে মাস্টার্সের রিসার্চ আউটপুট খুব ভাল হলে একটানে পি.এইচ.ডি করে ফেলাটা বুদ্ধিমানের কাজ।

গুডলাক।

সুমন চৌধুরী বলেছেন:
২০০৬-০৬-০৫ ১১:০৬:৩৬

জ্বিনের বাদশা ভাল বলেছেন ।

ধানসিঁড়ি বলেছেন:
২০০৬-০৬-০৫ ১১:০৬:৪৩

ভাই, আমার পিএইচডি করার খুব শখ ছিল।
আপনার মন যা চায় তাই করে ফেলেন, কোন সমস্যা না।

হাসান বলেছেন:
২০০৬-০৬-০৫ ১১:০৬:১৩

আমার মনে হয় একবার পড়াশুনা থেকে দূরে সরে গেলে আবার পড়াশুনায় আগের মতো মনোযোগী হওয়া কঠিন, তাই পরে পিএইচডি করবো, এমন প্ল্যান করা ঠিক হবে না। ইচ্ছা থাকলে এখনই শেষ করে ফেলেন। এতদিন যখন বউটারে কষ্ট দিছেন, আর কয়েকটা দিন নতুন শাড়ি-গয়না কিনে দেব - এই আশা দিয়া কষ্টে রাখেন। ৩০ টা বছর পড়াশুনা করছেন ... আর তো মাত্র ২/৩ বছর।

ছায়াপথে আমার বাড়ি বলেছেন:
২০০৬-০৬-০৫ ১২:০৬:৩৫

আমার মনে হয় পড়াশোনা চলিয়ে যান। ইচ্ছে হলে চলে যাবেন আকাশে

এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
২০০৬-০৬-০৫ ২১:০৬:৩৮

একবার ব্রেক করলে নতুন করে শুরু করা সম্ভব না। বউকে বোঝানো সমস্যা হবে না। সমস্যা অন্য জায়গায়। দেখি একটা বড় পোষ্ট ঝেড়ে দেব এর উপর।

ধন্যবাদ সবাইকে।

হযবরল বলেছেন:
২০০৬-০৬-০৫ ২২:০৬:২৮

Permanent head Damage এর ডিসিশান খুব বড় ডিসিশান।

১। এই মুর্হুতে তোমার চাকরীর এভেইলএবিলিটি কেমন? এখন যদি চাকরী না নাও, চার বছর বাদে পরিস্খিতি কেমন দাড়াবে ?
২। পি.এইচ.ডি করলে চাকরীর স্কোপ ন্যারো হয়ে যাবে, ফিলড হয়ে যাবে লিমিটেড।
৩। কিছুদিন চাকরী করার পর পড়ালিখা করলে ভাল হয় বানিজ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে। প্রকৌশলে বেটার হচ্ছে কো-অপ করা।
৪। যদি শিক্ষকতা করার ইচ্ছা থাকে তবে, মার্স্টাস করেই পি.এইচ.ডি করা উচিত।
৫। পি.এইচ.ডি অবশ্যই অবশ্যই এমন একটা বিষয়ে করা উচিত, যেটা ভালবাস। তবে আমার মনে হয়েছে, যে বিষয়েই কর, সারাদিন ঐটা নিয়ে থাকতে থাকতে বিষয়টাকে ভালবেসে ফেলবে, আগে থেকে ভালবাসা না থাকলেও।

যদি আমার আইডিয়া চাও বলব করার ইচ্ছা থাকলে, যত তাড়াতাড়ি পার পি.এইচ.ডি কর। কারণ ফ্যামিলি যত বড় হবে দায়িত্ব বাড়বে, বিষয়টা তত বেশী ডিফিকালট হবে। অনেক বেশী বলে ফেললাম।

হযবরল বলেছেন:
২০০৬-০৬-১৩ ২৩:০৬:০৭

কি ডিসশান নিলা।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
২০০৬-০৬-১৩ ২৩:০৬:৪৬

আপাতত দুইটার জন্য এপ্লাই করব - চাকরী আর পিএইচডি এডমিশন। আব্বা আম্মা খুব চাপাচাপি করতেছে। আর এইদিকে চাকরীর বাজার খুব ধুমধারাক্কা। ফাইনালী কোনটা বেছে নিব এখনও বুঝতেছিনা।

হযবরল বলেছেন:
২০০৬-০৬-১৩ ২৩:০৬:১০

চাকরীর বাজার মনে হয় দিন দিন বেশ
ইমপ্রুভ করছে।

সাদিক মোহাম্মদ আলম বলেছেন:
২০০৬-০৬-১৩ ২৩:০৬:৩৩

ব্যস্ততার জন্য অনেকদিন তোর ব্লগে কমেন্ট করা হচ্ছে না। এসেছিলাম ভিয়েনা, কনফারেনসের কাজে। সাথে ছুটি নিয়ে হালকা ইউরো ট্যুর।

পিএইচডি করে ফ্যাল। চাকুরী থাকে এবং থাকবে। তোর মতো মানুষের চাকুরীর জন্য অপেক্ষা করতে হবে না, চাকুরী তোর জন্য অপেক্ষা করছে। চাকুরীর বাজার ধুমধারাক্কা ভবিষ্যতেও থাকবে। যতদিন যাচ্ছে ততো কোয়ালিফিকেশন রিকয়ারমেন্ট বাড়ছে বলেই পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে জব সামনের দিনে আরো বেশি হবে।

তুই বললি, তুই বিবাহিত। তাড়াতাড়ি জীবন শুরু করা দরকার। এখন কি জীবনের ভিতরে নাই? চাকুরী করলেই যে বেড অফ রোজেস লাইফ হবে কে বললো? টাকা কামাইতে স্ট্রেস কতো যে কোন ভালো চাকুরীরে জিগাইয়া দ্যাখ।

যে ডিসিশনই নিস, গুড লাক।

শোহেইল মতাহির চৌধুরী বলেছেন:
২০০৬-০৬-১৪ ০০:০৬:১১

জ্বিনের বাদশার মত মানছি।

হযবরল'র সবগুলো পয়েন্টের সাথে একমত।

পিএইচডি টা কেনো করবেন এটার মূল কারণ জানা থাকলে ভালো।

যদি শিক্ষক হতে চান তবে কোনো রিসার্চ প্রজেক্টের আওতায় এখনই পিএইচডি-টা করে নিলে সহজ হবে।

তবে চাকুরি যদি আগে পেয়ে যান তবে সহজে পিএইচডি করে ডক্টরেট হয়ে যেতে পারবেন। প্রায় ১২ টার মত পাবলিশড পেপার থাকলে অনেক ইউনিভার্সিটি পিএইচডি দেয়। এতে দুকূল রক্ষা হয়।

(প্রথম প্রকাশ সামহোয়্যারইন ব্লগ ২০০৬-০৬-০৫)

রিসার্চ নিয়ে প্যাঁচাল


ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটা খুব প্রিয় সংজ্ঞা আছে আমার - ইঞ্জিনিয়ারিং হচ্ছে মানব জাতির সমস্যা সমাধানের জন্য পদার্থ বিজ্ঞান ব্যবহারের শিল্প [১]।

সমস্যা সমাধানের জন্য একজন ইঞ্জিনিয়ার সমস্যাকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে ফেলে। আসলে, যে কোন বুদ্ধিমান মানুষই সেটা করে। এরপর ছোট ছোট ভাগ গুলো সমাধান করে জোড়া লাগালেই কেল্লা ফতে।

কোন কোন প্রতিষ্ঠান আছে যারা এখনও আদ্যিকালের বিরাট বিরাট যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছে। বিশেষ কারনে প্রতিষ্ঠানটির নাম বলতে পারছিনা, কিন্তু বিশ্বাস করুন এরকম প্রতিষ্ঠান খোদ আমেরিকাতেই আছে যারা ৩০/৪০ বছরের পুরোনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে। পুরোনো যন্ত্রপাতি মেইনটেনেনসের ঝক্কিও অনেক। আর যেসমস্ত কোম্পানী যন্ত্রগুলো বানিয়ে ছিল হয় তারাই বিলুপ্ত হয়ে গেছে, নতুবা তারা আর স্পেয়ার পার্টস বানায় না। প্রয়োজনের তাগিদে এই স্পেয়ার পার্টস তখন ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানকেই বানিয়ে নিতে হয়।


পুরোনো পার্টস থেকে নতুন পার্টস বানাবার সময় প্রাথমিক ভাবে যে পদ্ধতি অনুসরন করা হয়েছিল দেখা যায় সে পদ্ধতি অনুসরন করা সম্ভব নয়। উদাহরন স্বরুপ, কম্পিউটারের কেসিং ঢালাই করে তৈরী করা হয়ে থাকে। কিন্তু নতুন করে এই কেসিং বানাবার সময় ঢালাই করার উপযুক্ত প্রযুক্তি নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে হাতের কাছে যে পদ্ধতি আছে সেটা দিয়ে জিনিসটা তৈরী করতে হবে। তাই সে সমস্ত ফিচার ঢালাই করে তৈরী করা সোজা সেটা আর সোজা নাও থাকতে পারে।

প্রাথমিক ভাবে যে পদার্থ দিয়ে পার্টটি তৈরী ছিল এখন হয়ত সেই ম্যাটেরিয়াল পাওয়াই যায় না বা পাওয়া গেলেও হাতের কাছে নেই। সুতরাং আগের চেয়ে কিছু পরিবর্তন দরকার যাতে করে নতুন ম্যাটেরিয়ালে এটা খাপ খায়। যেমন, প্লাস্টিকে তৈরী কম্পিউটার কেসিং যদি স্টিল শীট দিয়ে তৈরী করতে হয় তাহলে তার থিকনেস কম হলেও চলে।

আর অন্যান্য ফ্যাক্টর যেমন খরচ, সময় এগুলোও যত কম লাগে তত ভাল।

আমার কাজটা হল এইরকম একটা সিনারিওতে, পুরো প্রসেসটাকে অটোমেট করা। প্রথমে আমাকে একটা পার্ট দেয়া হবে, ক্যাড মডেল হিসেবে। এবং বলে দেয়া হবে কি ভাবে ম্যানুফ্যাকচার করা হয়েছিল, প্রাথমিক ম্যাটেরিয়াল কি ছিল, কি রকম লোড ছিল এর ওপর, অন্যান্য লিমিটেশন কি ইত্যাদি। আমার কাজ হবে এই সমস্ত তথ্য এনালাইজ করে আমাকে দেয়া ক্যাড মডেলের উপর ভিত্তি করে আরেকটি নতুন ক্যাড মডেলের জন্ম দেয়া যেটা এই নতুন পদ্ধতির সাথে খাপ খেতে পারে।

সুতরাং বুঝতেই পারছেন পুরো কাজটা আসলে কম্পিউটারে। মূলত প্রোগামিং আর জিওমেট্রিক কারনেল নিয়ে ঘাটাঘাটি।

আমার রিসাচের্র সমস্যাটা সমাধানের জন্য মূল সমস্যাকে তিন ভাগে ভাগ করে ফেলা যায়। প্রথম ভাগ হলো তথ্য সংগ্রহ, দ্বিতীয় ভাগ হল নতুন ক্যাড মডেল তৈরী এবং তৃতীয় ভাগ হল এই নতুন মডেল কতটুকু গ্রহনযোগ্য হল, সেটা আদৌ তৈরী করা সম্ভব হবে কিনা তা যাচাই করা।

রিসাচের্র বর্তমান পর্যায়ে আমি প্রথম ভাগ নিয়ে কাজ করছি, আর আরেকটা ছেলে শেষ ভাগটায় কাজ করছে। মাঝের ভাগটা এখনও শুরু করা হয়নি।

প্রথম ভাগটার কাজটা একটু করে বলি। ধরে নেই পুরোনো যন্ত্রাংশটির ক্যাড মডেল আছে। তখন আমার প্রোগ্রামটি নিচের তথ্য গুলো সংগ্রহ করবে:
১। এর ওপর কি কি ধরনের লোড পড়বে
২। এটির আকার আকৃতির পরিবর্তন এর সাথে লাগোয়া যন্ত্র পাতির ওপর কি রকম প্রভাব ফেলবে
৩। যে ম্যাটিরিয়াল দিয়ে এটি প্রাথমিক ভাবে তৈরী ছিল তার কোন কোন গুন গুলো জরুরী
৪। এটি কি কাজে ব্যবহৃত হত

এই সমস্ত তথ্য সংগ্রহ শেষে এটি যাবে দ্বিতীয় ধাপে এবং সবশেষে তৃতীয় ধাপে। অবশেষে আমরা একটি উত্তর পাবো নতুন যন্ত্রাংশ কিরকম হবে সে ব্যাপারে। আর এভাবেই সম্পন্ন হবে পুরো প্রক্রিয়াটি।


কেউ কি ক্যাড ক্যাম নিয়ে কাজ করেছেন? বা রিলেটেড ফিলডে আছেন?


[১] "Engineering is the art of applying the physical sciences to the problems of mankind" (Design of Machine Elements, V. M. Faires)


(প্রথম প্রকাশ সামহোয়্যারইন ব্লগ - পর্ব ১ ২০০৬-০৫-২৫, পর্ব ২ ২০০৬-০৫-২৫)