তিনটি বাঁদর



তিনটি বাঁদর।

তাদের একজন কান বন্ধ করে আছে। বলছে - 'খারাপ কিছু শুনতে নেই'।

আরেকজন চোখ বন্ধ করে আছে। বলছে - 'খারাপ কিছু দেখতে নেই'।

তৃতীয়জন মুখ বন্ধ করে আছে। বলছে - 'খারাপ কিছু বলতে নেই'।

সেই যে আমার কার্টুন দেখার দিনগুলি



ছোটকালে কার্টুন অনেকেই দেখে থাকবেন। আশির দশকের থান্ডারক্যাটস থেকে শুরু করে সুপারম্যান, স্পাইডারম্যান এসব কার্টুন তো আমাদের মুখে মুখে ঘুরত। মননে চিন্তায় চেতনায় কি এসব একটুও প্রভাব ফেলেনি?

বাস্তবে যা সম্ভব নয় কার্টুনে তা হতে দেখে যার-পর-নাই মজা লাগত। কল্পনায় দেখতাম আমি স্পাইডারম্যান হয়ে গেছি, উড়ে বেড়াচ্ছি সুপারম্যান হয়ে। কিন্তু কল্পনা কল্পনাই, বাস্তব হয়না কখনও।

সমস্যা হচ্ছে বড় হয়েও আমার কার্টুনের নেশা কাটে নাই। টিভিতে অন্যান্য চ্যানেল আমি যতনা দেখতাম তার চেয়ে বেশী দেখতাম কাটুর্ন নেটওয়ার্ক। কার্টুন দেখা সত্যি লজ্জাকর ব্যাপার একটা বুড়ো ধাড়ির জন্য। কিন্তু নেশা বলে কথা...

বাস্তবে তো আমাদের নিরন্তর বসবাস। বাস্তবের নিত্য আঘাতে হৃদয় জীর্ণ থেকে জীর্ণতর হয়। তাই এই ফ্যান্টাসির জগৎ বড় ভাল লাগে আমার। মানুষের অতিলেীকিক ক্ষমতা, ভাল মানুষদের ভালো করার অভিপ্রায় এসব সহজ সরল বিষয় আমার মোটা মাথায় ঢোকে ভাল।

আমেরিকা আসার প্রায় একবছর পর একটা ছোট্ট টিভি কুড়িয়ে পেয়েছি। সে সমস্ত চ্যানেল ফ্রি পাই তার মধ্যে wbc একটা। এই চ্যানেলে রাত সাড়ে ১০টায় নিয়মিত একটা কার্টুন দেখায় - South Park নামে। একেকটি পর্ব যেন রাসেল ( .......) এর একেকটি জ্বালময়ী লেখা। সমাজরে অসঙ্গতির ফ্যান্টাসী প্রেজেন্টেশন। কাগজ কেটে বানানো দ্বিমাত্রিক ছবির বিশ্রী প্রেজেন্টেশন, খুব রাফ, প্রচন্ড অপমান করে বলা কথা বাতার্ এসব দেখে অনেকে অফেন্ডেড ফিল করতে পারে। তারপরেও আমার কাছে ভীষন মজা লাগে কাটুর্ন গুলো। এমনকি কোন কোন পবের্ তারা মোহাম্মদ (সা:) কে নিয়েও ঠাট্টা করেছে। হয়ত এর অল্প জনপ্রিয়তার কারনে কেউ লক্ষ্য করেনি এটা।

কিছুদিন আগে একটা ওয়েবসাইটে বেশ কিছু কার্টুনের কালেকশন পেলাম। আর পায় কে আমাকে - তুমুল দেখছি কেবল।

http://cartoons.peekvid.com/

মন্তব্যসমূহ
  • অরূপ বলেছেন:
    ২০০৬-০৭-১২ ২৩:০৭:২৫
    চানস পাইলে এখনও দেখি..
    ডেক্সটারস ল্যাবরেটরী, ফ্যামিলি গাই, সাইথ পার্ক আর সিম্পসনস ..

    পপাই আর থান্ডারক্যাটস ছিল জটিল আনন্দের বিষয়!!!
    টম এন জেরী দেখার খায়েস যখন ছিল তখন উপায় ছিল না, বুড়া কালে শখ মিটছে!
  • এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
    ২০০৬-০৭-১৩ ০০:০৭:৫৯
    যাক আরেকজনরে পাওয়া গেল তাহলে।
  • অরূপ বলেছেন:
    ২০০৬-০৭-১৩ ০০:০৭:৫৪
    আরও আছে.. লজ্জায় আবাজ দেয় না..
  • গোপাল ভার বলেছেন:
    ২০০৬-০৭-১৩ ০৪:০৭:৪৫
    আমিও কার্টুনের কড়া ফ্যান।
    আগে টম এন্ড জেরি কিডস শোর ভিতর একটা কার্টুন দেখাতো, নাম ড্রুপি এন্ড ড্রিপল , কঠিন লাগতো।

    পছন্দের তালিকায় আরো আছে:

    সামুরাই জ্যাক, স্পনজ বোব, হেই আর্নোলড, কারেজ দা কাওয়ার্ডলি ডগ।
    লুনি টিউনসের সিরিজ গুলো খুব ভাল লাগে।
  • এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
    ২০০৬-০৭-১৩ ০৪:০৭:৫৭
    সবগুলোই আমার মজা লাগে। এক্স মেন গুলো আগে দেখা হয়নি। এখন দেখছি।

    http://cartoons.peekvid.com/
    এই লিঙ্কটাতে অনেক কার্টুন পাবেন।
(প্রথম প্রকাশ সামহোয়্যার ইন ব্লগ ২০০৬-০৭-১২)

মি: হাইড



প্রতিটা মানুষের ভিতর ভাল আর খারাপ এই দুটি সত্ত্বার বসবাস। চচার্র মাধ্যমে কেউ খারাপ সত্ত্বাটির বিকাশ ঘটায় কেউ ঘটায় ভাল সত্ত্বাটির বিকাশ। ড: জেকিল আর মি: হাইডের গল্পটি দুলাইনে প্রকাশ করতে বলা হলে এভাবেই বলব আমি।

খারাপ সত্ত্বাটি কিন্তু ভেতরেই থাকে। অপেক্ষা করে সুযোগের। তচনচ করে দেয় পৃথিবী সঠিক সুযোগ পেলে।

একই সুর পাই আমরা এক্স মেন ত্রি তে জীনের চরিত্রে। তেমনি সাম্প্রতিকতম বিশ্বকাপ ফাইনালে জিদানের ব্যাবহারে দেখা যায় তার মি: হাইডের বহি:প্রকাশ।

আমার ক্ষেত্রে দেখেছি চুল বড় রাখলে আমার মি: হাইড বেরিয়ে আসে। ক্রমাগত হিংস্র থেকে হিংস্রতর হয়ে যেতে থাকি আমি। পুরো দুনিয়াকে হেলায় সরিয়ে দিতে পারি। উড়িয়ে দিতে পারি সবকিছু ফুৎকারে।

চুল বাড়ে আর সেই দৈত্য বড় হয়, আরো বড় হয় - বেরিয়ে আসতেই থাকে ...

আপনার মি: হাইড বের হয় কখন, কিভাবে?

মন্তব্যসমূহ
  • সাদিক বলেছেন:
    ২০০৬-০৭-১০ ০৬:০৭:৫৭
    যখন আমি কি, বা
    আমি আমার নিজেকে ভুলে যাই,
    ঠিক তখন।
  • সাদিক বলেছেন:
    ২০০৬-০৭-১০ ০৬:০৭:২৯
    চমৎকার থট প্রোভোকেটিং পোস্ট। যারা চিন্তা করে তাদের জন্য অবশ্যই। নইলে ..

    আমার ইংরেজী ওয়েবলগে পোস্টদিতে পারি এইটা? তোর ক্রেডিটে অবশ্যই।

    http://mysticsaint.blogspot.com
  • ফজলে এলাহি বলেছেন:
    ২০০৬-০৭-১০ ০৬:০৭:৫৯
    পোষ্টটি পড়েই কুরআনের যে আয়াতটি মনে পড়লো-

    [ইংলিশ]অহফ রহংঢ়রৎবফ র: (রি:য পড়হংপরবহপব ড়ভ) যিধ: রং ৎিড়হম ভড়ৎ র: ধহফ (যিধ: রং) ৎরময: ভড়ৎ র:. [ঝঁৎধ অংয-ঝযধসং : ০৮][/ইংলিশ]

    “তারপর তাকে তার সৎকাজের এবং তার অসৎকাজের জ্ঞান দান করেছেন।” [সূরা আস্-শামচ্ : ০৮]
  • ফজলে এলাহি বলেছেন:
    ২০০৬-০৭-১০ ০৬:০৭:৩০
    And inspired it (with conscience of) what is wrong for it and (what is) right for it. (Sura Ash-Shams : 08)

    ইংরেজীটা কি এবারও দেখা যাবে না?
  • সাইফ ভুইয়া বলেছেন:
    ২০০৬-০৭-১০ ০৭:০৭:৫২
    পবিত্র কুরআনে আত্মার তিনটি রূপের কথা বলা হয়েছে----
    ১। নাফসে আম্মারা
    ২। নাফসে লাওয়ামা
    ৩। নাফসে মুতমাইন্না।
    আম্মারা সবসময় মানুষকে খারাপ কাজের প্ররোচনা দিতে থাকে । লাওয়ামা কোন খারাপ কাজ করে ফেল্লে মনকে ধিক্কার দিতে থাকে । মুতমাইন্না সবসময় অবিচল আর প্রশান্ত থাকে। যার ভেতর আত্মার এই প্রভাব যতটুকু প্রকট তার কর্মকান্ড সেই রকমই হয়ে থাকে।

    তবে এখানে মি: হাইড বলে যাকে বুঝানো হয়েছে তাকে আম্মারাকেই বুঝানো হয়ে থাকতে পারে বলে আমার মনে হয়। হঠাৎ তার স্ফুরন মানবীয় দুর্বলতা এবং প্রথটির প্রভাব কেই প্রকাশ করে।
  • সাইফ ভুইয়া বলেছেন:
    ২০০৬-০৭-১০ ০৭:০৭:৪৩
    আমার নিজেকে ভুলে গেলেই কেবল ভেতরের মানুষটি (পশুত্বটি) বের হয়ে আসতে পারে। আমার নিজের বেলায় তা দেখেছি।
  • এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
    ২০০৬-০৭-১০ ০৭:০৭:০৭
    সাদিক, তুই তোর ব্লগে শিওরলি পোস্ট করতে পারিস।

    ফজলে এলাহি এবং সাইফ,
    আপনার বোধহয় মূল প্রসঙ্গ থেকে দূরে চলে যাচ্ছেন। নিজের মি: হাইড কখন বেরিয়ে আসে সেটাই বিশ্লেষন করতে চেয়েছি আমি।

    মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
  • এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
    ২০০৬-০৭-১০ ০৭:০৭:০০
    ওহ সাইফ আপনার দ্বিতীয় মন্তব্যটি দেখতে পাইনি আগে। সরি।
  • সাদিক বলেছেন:
    ২০০৬-০৭-১০ ০৮:০৭:৩৪
    কৃতজ্ঞতা।
  • অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
    ২০০৬-০৭-১০ ০৮:০৭:৫১
    ঢুসটাই দেখলেন! উস্কানিটা দেখলেন না!! জিদানের মতো মুখচোরা চুপচাপ আদমী কী কারণে প্রোভোকড হয় সেটাও বিবেচ্য। এনিওয়েজ, ভালো পাইছি আপনের বিশ্লেষণ। অ:র:পি: খুশ হুয়া
  • এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
    ২০০৬-০৭-১০ ০৮:০৭:০৩
    পিয়াল ভাই,
    জিদানকে কি বলছিল সেটা আমি জানি না, ইন্টারনেটেও পাইনি। কিন্তু তার মি: হাইড বের হতে দেখেছি। তখন ভাবলাম সবারই তো মি: হাইড থাকে, কখনও দেখা যায় কখনও যায় না। তো ঠিক কি জন্য ঘটে ব্যাপারটা সেটা ভাবতে গিয়ে এই পোস্টের জন্ম। কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ।
  • মুখফোড় বলেছেন:
    ২০০৬-০৭-১০ ১০:০৭:৫৩
    হুমমম ... প্লট পেলুম। দেখি রহস্যগল্পে এ সংক্রান্ত টুইস্ট দেয়া যায় কি না।
  • রেজওয়ান বলেছেন:
    ২০০৬-০৭-১০ ১৬:০৭:৩৩
    আপনার চুল এখন কত বড়?

    Jokes apart আমার মনে হয় মানুষের মনের খারাপ দিকটি বের হয়ে আশাটা নিতান্তই মানবিক ।

    এমনি যে ব্যক্তির শুধু গুনই প্রকাশ পায় তার মধ্যে নিশ্চয়ই গলদ আছে । আমি ব্যক্তি পুজোয় বিশ্বাসি না । জিদান অমন করায় তার হিরোইক ইমেজের ক্ষতি হয়েছে কিন্তু সে যে রক্ত মাংসের মানুষ এটাই প্রকাশ পেয়েছে ।

    আমার মনে হয় স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড হওয়াই ভালো । মুখে মিষ্টি আর পেটে বিষ ধরনের ভন্ড সম্পর্কে আমি সব সময়ই সাবধানে থাকি ।
  • চোর বলেছেন:
    ২০০৬-০৭-১০ ১৬:০৭:৫৬
    আমার কোনো হাইড ফাইড নাই। যা কই সরাসরি। আপনে মিয়া এই মান্ধাতা আমলের বড় চুলের স্টাইল বাদ দিয়া টাকমাথা হইয়া যান। তয় জিদানের মত আমারে আবার টাকমাথা দিয়া গুতা মারতে আইসেন না।
  • এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
    ২০০৬-০৭-১০ ২২:০৭:১৮
    মুখফোড় যে হারে আপনি প্লট পাচ্ছেন তাতে করে ঢাকা বাসী তো প্লটহীন হয়ে যাবে। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে হবে। অবশ্য আপনি প্লট পাইলে আমাদেরই সুবিধা। ক্যারি অন।
  • এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
    ২০০৬-০৭-১০ ২২:০৭:৪৪
    রেজওয়ান ও চোর ধন্যবাদ।
    চোর ফ্যাশন ট্যাশন মানি না। আমি লম্বা চুল রাখতে পছন্দ করি। দ্যাটস ইট। তবে আর হয়ত রাখা হবে না।
(প্রথম প্রকাশ সামহোয়্যার ইন ব্লগ ২০০৬-০৭-১০)

বিয়ের জন্য মেয়ে দেখা



এশিয়ার দেশগুলোতে সেটল ম্যারেজের ক্ষেত্রে মেয়ে দেখা নামক এই বিদঘুটে প্রথাটা চালু আছে। পুরো প্রসেসটি বেশ জটিল এবং অর্থ ও সময় দুটোরই অপচয় ঘটায়। প্রথমে মেয়ের বা ছেলের খোঁজ লাগাও - সম্ভবত কোন মধ্যবতীর্ লোকের মাধ্যম - সে হতে পারে বিনামূল্যে সাহায্যকারী কোন আত্মীয় বা অথের্র বিনিময়ে সাহায্যকারী ঘটক ব্যাক্তি বা সংস্থা।

এই মেয়ে দেখা পদ্ধতির জন্ম অনেক বছর আগে যখন মেয়ে ছেলেরা কাছাকাছি হবার সুযোগ পেত কম, বিয়ের আগের সর্ম্পকটাকে ভীষন খারাপ হিসেবে ধরা হত। এ যুগেও দেখা যায় বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রথাটার দরকার আছে। যেমন ধরুন ছেলে বা মেয়ে দেশের বাইরে থাকে, সেক্ষেত্রে তাদের গন্ডি সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। তাই দরকার হয় ম্যাচমেকিং। কিংবা ছেলে বা মেয়ে এতটাই অর্ন্তমূখী যে বিপরীত লিঙ্গের সাথে তাদের মেলামেশা সীমিত - সেক্ষেত্রেও এটার প্রয়োজন। কিন্তু আমার আপত্তি পরিবারের সবাই দলবেঁধে যাওয়াটাতে।

শুধুমাত্র এই ব্যাপারটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ম্যাচমেকার সংস্থা এবং ওয়েবসাইট। বিশেষ করে ইন্ডিয়ার শাদী ডট কম, বা রেডিফ ডট কমের মত ওয়েবসাইট গুলো এক্ষেত্রে গুরুত¡পূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। বাংলাদেশেও এই ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ফলে অনেকে এদের কাছে ধর্ণা দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে চান বিয়ের এই phase টিতে।

একটা ভাল সম্বন্ধ খুঁজে পাওয়া গেলে শুরু হয় মেয়ে দেখা। মূল কনসেপ্ট হচ্ছে মেয়ের বাড়িতে গিয়ে ছেলের বাসার সবাই চেখে দেখবেন সবকিছু ঠিক আছে কিনা - মেয়ের বাড়ির রান্না থেকে শুরু করে, মেয়ের চেহারা ছবি, পরিবারের অন্যান্যদের অবস্থা ইত্যাদি।

এই ব্যাপারটা যে কি ভয়ঙ্কর তা সে মেয়ে মাত্রই জানে। সেজেগুঁজে বসে থাকো, হেঁটে দেখাও, গান শুনাও, ধাঁধার উত্তর দাও, হাসি মশকরা সহ্য কর - এরকম বিভিন্ন বিচিত্র ব্যাপারের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় মেয়েটিকে। অনেকে নামাজের মাশলা-মাসায়েল জিজ্ঞেস করে মেয়েকে। অনেকে আবার ভেজা পায়ে হেঁটে যেতে বলে পায়ের নিচের ফঁাকা জায়গাটা ঠিক আছে কিনা দেখার জন্য - যেন ওটা ঠিক না থাকলে কেয়ামত হয়ে যাবে। মুরুব্বীরা মেয়েটার শরীরের বিশেষ জায়গায় তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে - 'আমাগো পোলাডা মজা পাইবো কিনা সেইটা নিশ্চিত করতে হইবো না?' যেন কোরবানীর গরুর হাট। অথচ ছেলেটাকে এসবের কিছুই করতে হয়না। বসে বসে সে খালি মজা দেখে। এদিকে মেয়েটার পরিবারকে ৮/১০ জন লোক খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে করতে কালঘাম ছুটে যায়।

ইদানিং আবার এর ধরন বদলেছে। কোন দোকানে ছেলের পরিবারের একজন দুজন যায়, আর মেয়েটাও কাউকে নিয়ে যায়। দেখা সাক্ষাত হয় কথা বার্তা হয় - যেন সাজানো নাটক। শরীর বিশ্লেষন চলতে থাকে এরই ফাঁকে। আধুনিক নাগরিক জীবনের শর্টকাট মেয়ে দেখা।

আরেকটা ফর্ম আছে যেখানে মেয়ে ছেলে ফোনে কিছুদিন কথা বলে নিজেদের জেনে নেয়। তারপর নিজেরা কোথাও ডেটিংএ গিয়ে আরেকটু একান্ত হয় দুজনার। এই পদ্ধতিটাকে অবশ্য আমার ভালই মনে হয়েছে।

এখন যদি আপনার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ঘটে তাহলে কিভাবে দেখবেন? আপনি কি পুরোনো পদ্ধতিতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে মেয়ে দেখতে চাইবেন? নাকি নিজের মতে করে মেয়েটার সাথে কথা বলে বুঝে শুনে নিবেন?


(লেখাটির কনসেপ্টটার জন্য ধন্যবাদ ইফতেকার ভুঁইয়াকে)

মন্তব্যসমূহ
  • সামিউল বলেছেন:
    ২০০৬-০৬-৩০ ০২:০৬:২৮
    এখনকার দিনে সেটল ম্যারিজটা কিছু চাহিদা মেটানোর সামাজিক চুক্তি ছাড়া আর কিছুই না বলে মনে হয়।বিয়ে করার ক্ষেত্রে ছেলে মেয়ে দুইজনের অন্তত: নিজেদের মধ্যে ভাব-ভালোবাসা থাকা দরকার এবং একসাথে বাকী জীবন কাটানোর আগ্রহ থাকা দরকার বলে মনে করি।
  • হযবরল বলেছেন:
    ২০০৬-০৬-৩০ ০২:০৬:৩৯
    ছবিগুলি তুমি কই পাও।এই ছবি দেখে আমি মুগ্ধ। এই লেখায় কি ছু মসলা দিই।

    আগে গ্রামে মেয়ে দেখার সময় পাত্র পক্ষ আনারস নিয়ে যেত। ছিলার সময় আনারসের চোখ ফেলতে গিয়ে যদি আনারস শেষ হয়ে যায় তবে অপচয়ী মেয়ে। যদি কম ছিলে এবং সবজে রংটা থেকে যায় তবে কিপটুশ মেয়ে।

    মেয়ে দেখানোর জন্য সবচেয়ে ভাল হচ্ছে শীতের বিকাল বেলা সময়টা। এই সময় যে রোদ থাকে সেটাকে বলে গৌরর্বণ রোদ। এই আলোয় যা দেখবেন তাই ভালো লাগবে (এমনকি নেড়ি কুকুর দেখলেও )। শীতকালে বিয়ের প্রার্দু ভাবের এটা একটা সাইড কারণ।

    সাধু সাবধান গোধূলির আলোয় দেখবেন না , আর আম-কাঁঠালে ভুলবেন না।
  • এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
    ২০০৬-০৬-৩০ ০২:০৬:৩৪
    হযবরল মসলা গুলোর জন্য ধন্যবাদ। আমার ব্যাপারগুলো জানা ছিল না। আর ছবির জন্য ইন্টারনেট। একবার বেশ কিছু ছবি ডাউনলোড করে রেখেছিলাম একটা ত্রিডি ছবির গ্যালারী থেকে। সুযোগ বুঝে মেরে দেই।
  • আড্ডাবাজ বলেছেন:
    ২০০৬-০৬-৩০ ০২:০৬:০৭
    ভাইরে, এখন মিয়া বিবি রাজী থাকলেই গার্জিয়ানরা হাফ ছেড়ে বাচেন। ঝামেলা যতো কম ততো ভাল। ঘটা করে দেখার প্র্যাকটিস নির্ভর করে পারিবারিক পটভূমির উপর। তবে সাধারণত পছন্দ না হলে কেউ ফর্মালি দেখতে চায় না। ধন্যবাদ।
  • চোর বলেছেন:
    ২০০৬-০৬-৩০ ০৪:০৬:১২
    ব্যাপারটা কে কিভাবে দেখে তার ওপর নির্ভরশীল।প্রথমত, ভালোবাসা থেকেই বিয়ে হতে হবে, এই আশায় থাকলে অনেক মেয়ে বা ছেলেকেই চিরকুমার/কুমারী থাকতে হবে। প্রেমের বিয়ে যে settled marriage এর চাইতে বেশি সুখের হবে, তারও কোন গ্যারান্টি নাই।
    Matchmaking জিনিসটা খারাপ না। কিন্তু আমরাই এটার অপব্যবহার করি।
    আমার প্রবাসী বন্ধুরা, যারা বুদ্ধুরাম হয়ে সারা জীবন career নিয়ে ব্যস্ত ছিলো, কোন মেয়ের সাথে ঘনিষ্ট হতে পারেনি, তাদের মেয়ে খোজার দুরবস্খা দেখে কান্না পায়। এক একবার দেশে আসে, আর যাওয়ার সময় সেই খালি হাত। পছন্দের সমস্যা ছেলে মেয়ে দুইদিক থেকেই। অনেক এলেবেলে টাইপের মেয়ের মা ও মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজী হন না।
  • আস্তমেয়ে বলেছেন:
    ২০০৬-০৬-৩০ ০৪:০৬:৫৫
    ম্যাচমেকিং পুরোটাই খারাপ না, অনেক সময় অন্য কিছু ক্যাটালিস্ট হলে ভাল হয়।
    তবে দেশের প্রত্যন্তঅঞ্চলে, এমনকি শিক্ষিত অনেকের মাঝে 'মেয়ে' দেখার নামে যা চলে... সেটা স্রেফ নারী নির্যাতন ছাড়া আর কিচ্ছু না।
  • চোর বলেছেন:
    ২০০৬-০৬-৩০ ০৪:০৬:১৩
    আস্ত, তুমি বিয়া করবা কবে? ঘটকালির দায়িত্বটা আমারে দিতে পারো। যৌতুকের লিস্টিটা ছোট কইরা দিমুনে।
  • চোর বলেছেন:
    ২০০৬-০৬-৩০ ০৫:০৬:৪৪
    আর কোনো পাত্রী থাকলেও আওয়াজ দিয়েন।
  • সাইফ ভুইয়া বলেছেন:
    ২০০৬-০৬-৩০ ০৬:০৬:৪৩
    আমার কাছে বিয়ের ভাল বয়স তো ২৫ কিন্তু অনেকেই এই বয়সটায় বিয়ে কর্মটি সারতে পারে না। পড়াশোন, প্রতিষ্টা, আর্থিক সংকটের কারনে তাদের জন্য পরিবার মেয়ে দেখার কাজটি করে। আমাদের সামাজিক পদ্ধতির কারনেই মেয়ে দেখার কাজটি করতে হয় । মেয়ে বা ছেলে দেখার ব্যাপারে কল্যানকর হবে যিনি মধ্যস্খতা করবেন তিনি যদি প্রথমেই দুজনের বায়োডাটা পরষ্পরকে দিয়ে দেন। সমস্তরকম খোজখবর গুলি নিয়ে নেয়া জরুরী। যদি সব ঠিক থাকে তাহলে ছেলে মেয়ে দুজনের মাঝে কথা বলে নেয়ার একটি সুযোগ থাকা জরুরী। আমাদের দেশে হল্লা করে পাত্রী দেখার ব্যাপারটি নারী নির্যাতনের একটি পন্থা
  • আরাফাত রহমান বলেছেন:
    ২০০৬-০৬-৩০ ০৭:০৬:০৭
    মেয়ে দেখার নামে যেমন নারী নির্যাতন কাম্য নয়, তেমনি ফোনে কথা বলে ডেটিং এ গিয়ে একান্ত হবার ব্যাপারটি সমাজ ব্যবস্খায় বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। পশ্চিমা সমাজে যে ভাবে হয়েছে।
    আমার মনে হয় মধ্য পন্থা অবলম্বন করা উচিত। মেয়ে দেখতে যাবে ছেলে নিজে। সেখানে অভিভাবকদের মেয়ে দেখার কোন প্রয়োজনই নেই। আর ছেলে যখন মেয়ে দেখতে আসবে তখন মেয়েও ফ্রি ফ্রি ছেলে দেখে রাখবে। অভিভাবকরা শুধু বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করবে। তাদের আর কাজ কী?
(প্রথম প্রকাশ সামহোয়্যার ইন ব্লগ ২০০৬-০৬-৩০)