গায়ে হলুদের ছড়া



আমার স্ত্রীর এক বোনের বিয়ে। অনুরোধে ঢেঁকি গিলে একটা ছড়া লিখে দিতে হলো। ধরে নেই তার নাম মিশা। মিশা এখানে মাস্টার্স করছে। বিয়ের জন্য দেশে যাচ্ছে।

মিশার গায়ে হলুদ
=============
মিশা মোদের আসবে হেথায়
সাত সমুদ্র ঘুরে,
এমন মজা কোরব, তোমার
প্রানটি যাবে ভরে।

নাচব মোরা গাইব মোরা
নতুন চেনা সুরে,
মিশা মোদের পরবে নতুন
হলুদ শাড়ি ডুরে।

তোমরা যত বন্ধু আছো
খুব কাছে ও দুরে,
রইলো দাওয়াত চলে এসো
এই আমাদের ভিড়ে।
=============

বলুন তো ব্লগার ভাইয়েরা কেমন হোল? কারো কোন সদুপদেশ থাকলে তাও দিতে পারেন।


(প্রথম প্রকাশ সামহোয়্যার ইন ব্লগ ২০০৬-০৬-২৩)

প্রিয় মিউজিশিয়ান: Joe Satriani



গীটার যখন বাজাতে শুরু করি তখন ঢাকায় ক্রেজ চলছে মেটাল মিউজিকের। আসলে শুধু ঢাকায় না বরং সারা বিশ্ব জুড়েই। আমার বন্ধু হাসান, না না আকের্র হাসান নয় - অনেক সম্ভাবনা নিয়ে হারিয়ে যাওয়া হাসান - সে ছিল আমার গীটার শেখার অনুপ্রেরনা। এবং গাইডও বলা যায়।

গীটার ধরেছি আমি বহু দেরীতে। ইন্টারমিডিয়েটের শেষের দিকে। বাচ্চু জেমসের গানগুলো তখন একটু একটু বাজাতে পারি। আর হাসান মাঝে মাঝে কিছু লেসন দিত। ওর সাথে থেকে থেকে আমি তখন মেটালিকা, আয়রন মেইডেন, মেগাডেথ এইসব শোনা শুরু করেছি। একটু একটু চুল বড় রাখা শুরু করেছি। সিগারেট টানতে টানতে মোটামুটি চেইন স্মোকারের পযার্য়ে চলে গেছি।

এমন সময় পরিচয় সবুজ নামের এক ছেলের সাথে। আমার সবসময়ের ফ্যান আমার ছোট ভাই। আমি যাই করি সে সেটাতে মুগ্ধ। আমার ছোট ভাই বোধকরি কারো কাছে গল্প করেছিল যে আমি খুব ভাল গীটার বাজাই। সেটা সবুজের কানে পৌছালে আমার ভাইয়ের সাথে আমাদের বাসায় আসে। এসে তো সে টের পেল আমি তখনও নাদান। তো সবুজ তখন উলটো আমাকে কিছু জ্ঞান ট্যান দান করল। সবুজ তখনই খুব ভাল বাজাত। আর ও শুনত মূলত ইনসট্রুমেন্টাল জেনেরি।

আস্তে আস্তে সবুজের সাথে ঘনিষ্টতা বাড়ল। তখন সবুজ আমাকে কিছু গান শুনতে দিল জো স্যাটরিয়ানির। আরো কিছু ভাল গীটার প্লেয়ারের মিউজিকের সাথে পরিচয় তখন। কিন্তু জো এর মিউজিক সত্যিই আমার হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল।

জো এর গীটারে পর্দাপন ১৪ বছর বয়সে যখন জিমি হ্যানড্রিক্স নামে একজন গীটার লিজেন্ড মারা যান তখন। জো ফুটবল খেলছিল - ক্যাপ্টেনের কাছে এসে বলল আমি আর ফুটবল খেলবো না - গীটার বাজাবো। সেই তার শুরু।

বিভিন্ন ধরনের গীটার টেকনিকে জো হচ্ছে অসাধারান। বেশ কিছু নতুন টেকনিকের আবিষ্কারক ও সে। তার ছাত্রদের মাঝে অনেক নামকরা লোকও আছে - স্টিভ ভেই থেকে শুরু করে কার্ক হ্যামেট (মেটালিকা)। জো এর নামে বিখ্যাত গীটার কোম্পানী আইবানেজের একটি গীটার সিরিজও আছে। এখন সে ক্যালিফোনির্য়ার কোন একটি কলেজে গীটার বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা দিয়ে থাকে।

জো যখন শুধু গীটার সোলো দিয়ে একটি এলবাম করার চিন্তা করে তখন এটা কিন্তু এক বড়সড় ব্যতিক্রম ছিল। কোন কথা ছাড়া শুধু মাত্র গীটার মিউজিক কতজন শুনবে সেটা ভেবে অনেক প্রডিউসার এগিয়ে আসতে সাহস পাননি। শেষ পর্যন্ত তার ডেমো এলবাম শুনে একজন প্রডিউসার সাহস করে এগিয়ে আসেন। এরপর বাকিটা ইতিহাস।

আসলে প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং সস্তায় এলবাম বের করবার ক্ষমতা এই ধরনের পরীক্ষামূলক কাজ করবার সুযোগ করে দিয়েছে। জিমি হ্যানড্রিক্স সহ আরো অনেকে কিন্তু মূলত গীটার শিল্পি ছিলেন। কিন্তু এরকম পদক্ষেপ নিতে পারেননি। তারা জন্মেছিলেন ভুল সময়ে।

জোয়ের বৌ রুবিনা কে নিয়ে কম্পোজ করা বেশ কিছু সফট মিউজিক আছে। অসাধারন সেগুলোর কম্পোজিশন। এর মধ্যে Rubina's Blue Sky Happiness, Always with you, always with me সহ আরো অনেক গুলো রয়েছে। ইদানীং বাংলা কিছু নাটকে জো এর মিউজিক গুলো মেরে দিতে দেখলে খুব খারাপ লাগে।

আমার গীটার হারিয়ে গেছে। হারিয়ে যায়নি জো স্যাটরিয়ানি। এখনও সুযোগ পেলেই মেতে থাকি জো এর মিউজিক নিয়ে।


ওয়েবসাইট
http://en.wikipedia.org/wiki/Joe_Satriani
http://www.satriani.com/


(প্রথম প্রকাশ সামহোয়্যারইন ব্লগ ২০০৬-০৬-২০)

এশিয়ান এডভাইজারদের সমস্যা



আমার মনে হয় আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শতকরা ষাট ভাগ প্রফেসরই এশিয়ান। মূলত: এদের দ্বারাই ইউনিভাসির্টি গুলো চলে। এশীয়া বলতে আমি মূলত ইন্ডিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্থান এবং কোন কোন ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কা বুঝাচ্ছি।

একটা তুলনা মূলক চিত্র সমস্যাটা ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করবে। তাই আগে উদাহরন টেনে বলি আমেরিকান প্রফেসরদের কথা।

আমার স্ত্রী মৌটুসীর প্রফেসর আমেরিকান। এই সামারে তাদের রিসাচের্র কিছু কাজ করার কথা ছিল। প্রফেসর ব্যাটা গিয়েছিল ফ্রানসে। তাই এদিকে রিসাচের্র অগ্রগতি খুব ইমপ্রেসিভ না। সেই প্রফেসর ফিরে এসে বুঝল অবস্থা। তাই ওদের ডেকে কিছু রিসার্চ সম্পকির্ত সমস্যা সমাধান করতে বলল। উইকএন্ডে সমাধান করার কথা। হঠাৎ জিজ্ঞেস করল আচ্ছা তোমরা উইকএন্ডে কোথাও ঘুরতে যাচ্ছো নাতো? মৌটুসী উত্তর দিল যে হ্যাঁ তার সেডোনা যাবার ইচ্ছে ছিল। সেটা শুনে সে ব্যাটা তার কাজ কমিয়ে অধের্ক করে দিল। এটা হলো অনেক গুলো ভাল ব্যাপারের একটা।

যখন এই ইউনিভাসির্টিতে আপ্লাই করি তখন আমার রোবোটিক্স বা মেকাট্রনিক্স পড়ার ইচ্ছা এমনটা জানিয়ে ছিলাম। এখানকার রোবোটিক্সের প্রফেসর খুব ভাল মানুষ কিন্তু পযার্প্ত পরিমান ফান্ড নেই তার। সুতরাং আমাকে অলটারনেট কিছু খুঁজতে হয়। আর তখনই এই পাকিস্থানী প্রফেসরকে চোখে পড়ে। মেইল করে ফোন করে যোগাযোগ করে বুঝতে পারলাম ব্যাটার ছাত্র দরকার। আর আমার বাবা-মা তো আর দশটা বাঙ্গালী বাবা-মার মতো বলেই বসলেন, পাকিস্থানী মুসলমান তো নিশ্চয়ই ভাল হবে। তাই প্রথমদিন এসেই যখন ফান্ডিং পেয়ে গেলাম আমি ব্যাটার উপর যারপরনাই কৃতজ্ঞ হয়ে ছিলাম।

ধীরে ধীরে টের পেতে লাগলাম এই ব্যাটার সমস্যা। ব্যাটা একে তো খুব দেরী করে ছাড়ে ছাত্রদের তদুপরী তার ব্যবহার খারাপ। এক একজন ছাত্রের মাস্টার্স করতে গড় সময় লাগে তিন থেকে সাড়ে তিন বছর, যেখানে অন্যান্য প্রফেসরের কাছে লাগে দুই থেকে আড়াই বছর। আর পিএইচডি ছয় থেকে সাড়ে ছয় বছর। ব্যাটার ফান্ডিং ভাল, রিসার্চও ভাল বিষয়ের উপর করে, পাবলিশিং ভাল হয়। কিন্তু এতোটা সময়তো দেয়া সম্ভব না - তাইনা? তার উপর ব্যবহার খারাপ, টাকা দেয় তাই এমন ভাব করে যেন পুরো মাথা কিনে ফেলছে।

পুরোনো স্টুডেন্টদের ততদিনে যাবার সময় হয়ে এসেছে। আমাকে উপদেশ দিতে লাগল "পালাও, নিজেকে বাঁচাও"। কি করি আমি? দিশেহারা দিশেহারা লাগে। একদিকে একটা স্টেবল ফান্ডিং এর হাতছানি অন্যদিকে অনিশ্চয়তার ভয়।

তারপরও আমি চেষ্টা করলাম পালিয়ে যাবার। ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সব জায়গায় চেষ্টা করে বুঝলাম না হবে না পালানো আমাকে দিয়ে। এরমধ্যে আরো গোটা চারেক ছেলে এসেছিল। সবাই ইন্ডিয়ান - কিভাবে কিভাবে যেন অন্য প্রফেসরদের ম্যানেজ করে তারাও পালাল।

এর মধ্যে পুরোনোদের গ্রাজ্যুয়েশন শেষ। ল্যাবে শুধু আমি একা। ব্যাটা একটা কাজ করতে বলে আমি কিছুতেই বুঝিনা ব্যাটা কি চায়। যারা রিসার্চ করেন তারা হয়ত জানেন - ল্যাবে কো-অপারেশনটা গুরুত¡পূর্ণ। একলা একলা আর কি করা যায়?

এছাড়া আরো কয়েকটা ইন্ডিয়ান, বাঙ্গালী প্রফেসরদের কিচ্ছা শুনেছি। অনেকটা এরকমই তাদের গল্প। বিভিন্ন কোসের্ বিভিন্ন দেশের প্রফেসরদের সাথে ইন্টার্যাকশন হয়েছে - নন-এশিয়ান প্রফেসর অনেক উদার আর ভাল। হয়ত কারন হিসেবে সমাজবিজ্ঞানী শোমোচৌ হযবরলের পোস্টে যা বলেছেন সেটাই সত্যি। হয়ত আরো কিছু ব্যাপার স্যাপার আছে।

এখন মাঝে মাঝে মনে হয়। আমি কি একই জায়গায় গেলে একই রকম আচরন করব? আমি তো একই রকম পরিস্থিতি হয়ে এসেছি। কি জানি? সময়ই বলে দেবে হয়ত...


(হযবরলের পোস্ট 'দেশী এডভাইজর বনাম বিদেশী এডভাইজর' থেকে অনুপ্রানিত হয়ে)


(প্রথম প্রকাশ সামহোয়্যারইন ব্লগ ২০০৬-০৭-১৯)